সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী, দুবাই, আজমান এবং ফুজিরার ভক্স সিনেমা হলগুলোতে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। শুক্রবার এবং শনিবার দু বার করে বাংলাদেশী সিনেমা ‘পরবাসিনী’ প্রদর্শন করা হয়। বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের ছবি দেখে আনন্দে আপ্লুত প্রবাসিরা। তারা গর্ব করছেন এ নিয়ে।

প্রবাসী কমিউনিটি নেত্রী গোলশান আরা বলেন, ‘আমার সবচে’ ভাল্লাগছে পরদেশেও আমাদের নিজের দেশের ছবি দেখে। গর্ব হচ্ছে এ নিয়ে–আমাদের সংস্কৃতি দেখবে অন্যরাও।’

দুদিনই হলগুলোতে দুপুরের দিকে এ সিনেমা প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় আরবী দর্শকদের জন্য সিনেমাতে আরবী টাইটেল যোগ করা হয়। হলগুলোতে বাংলাদেশী প্রবাসী ব্যাচেলর এবং পরিবারেরও ঢল নামে। এই বিজয়ে অনেকে আবার হুমায়ূন আহমেদকে খুঁজে পেয়েছিলেন।

সংহতি সাহিত্য পরিষদ, আমিরাত শাখার সহ সভাপতি সৈয়দা দিবা জানান-‘আমাদের দেশে দর্শককে সিনেমামুখি করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। আগামিতে যেন তাঁর ছবিগুলো এখানে আনা হয়।’

মূলত ভিনদেশে বাংলা সিনেমার প্রসার ঘটাতে কাজ করছে কানাডার সংগঠন ‘স্বপ্ন’। তাদের আমিরাত শাখা গত পুরো একমাস ধরে চালায় প্রচারণা। আয়োজকেরা জানান আগামিতে মূলধারার ছবি এনে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরবেন।

‘স্বপ্ন’ এর আমিরাত প্রতিনিধি আহমেদ ইখতিয়ার পাভেল বলেন- ‘আমরা আগামিতেও মুলধারার ছবি আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য আপনারা যারা আমিরাতে আছেন অন্তত দলে বলে হলে বাংলা ছবি দেখেন।’

পরবাসে নিজেদের দেশকে অন্যদের কাছে তুলে ধরতে চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালি মাধ্যম। প্রবাসীরা চান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি যেন প্রবাসে দেখানো হয়। এতে করে অন্যদেশও জানবে একাত্তরে কী ঘটেছিলো আমাদের দেশে-

দুবাই প্রবাসী ব্লগার আজফাল সাদেকীন বলেন- ‘কনসুলেট এর মাধ্যমে একদিন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি প্রদর্শন করা যায়। এতে সব দেশের লোকদের আনা হবে। সবাই একাত্তরের সেই কালো অধ্যায় জানবে। আর আমাদের বীরত্বও দেখবে।’

‘পরবাসিনী’ দিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো আমিরাতে। প্রবাসীরা চান এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে। এ জন্য সকল বাংলাদেশীকে হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখতেও আহবান করা হয়েছে।