বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে তাঁর রচিত গান-কবিতা-ছড়া নিয়ে ‘রবীন্দ্রপাঠ’ এর আয়োজন করে সংহতি সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ আরব আমিরাত শাখা। শুক্রবার বিকেলে শারজাহের একটি রেঁস্তোরায় এই মনোমুগ্ধ অনুষ্ঠান হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারো সংহতি অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত দিয়ে। আমিরাত প্রবাসি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ইয়াসমিন কালাম নেতৃত্ব দেন রবী ঠাকুর রচিত প্রাণের জাতীয় সংগীতে। এরপর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান সঞ্চালনায় ছোট্টবন্ধু জোয়ারিন জিসান আবৃতি করে ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ ছড়াটি।

সংহতি রবীন্দ্র পাঠ আসরে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন – উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. জিনাত রেজা, শারজাহ ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার শেখ আব্দুল করিম, অধ্যাপক আব্দুস সবুর, আরবান রীডার্স এর সংগঠক নওশের আলী ও সংস্কৃতি অনুরাগি শহিদুল ইসলাম।

সংগঠনের সভাপতি লেখিকা-শিক্ষিকা মোস্তাকা মৌলার সভাপতিত্বে সংগঠনের কথা নিয়ে স্বাগত কথা রাখেন সহ সভাপতি সৈয়দা দিবা।

রবীন্দ্র পাঠ আসরে ‘মাঝি’ ছড়া পাঠ করেন আমিনুল হক। কবিতা নিয়ে আসেন জুয়েনা আক্তার রুনি। দুই বিঘা কবিতায় তিনি সবাইকে মুগ্ধ করেন। সঞ্চালক লুৎফুর রহমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরচেনা ছড়া  আমাদের ছোট নদী এবং ছুটি আবৃতি করেন ছড়ার ঢংয়ে। প্রবাসী কমিউনিটি নেতা জি এম জায়গীরদার তার ভরাট কণ্ঠে  ‘প্রথম সুখ’ এবং কবি ওবায়দুল হক ও কবি মোহাম্মদ আলী মনসুর রবী ঠাকুরের কবিতা আবৃতি করেন।

রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গান গেয়ে শোনান  তিশা সেন। আমি চিনি গো চিনি তোমারে  এ গানটিতে কণ্ঠদেন সানি মজুমদার এবং  সাংবাদিক সিরাজুল হক  ‘আমারো পরানো যাহা চায়’ গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন।

এরপর চলে কোরাস। কাইসার হামিদ ধরেন গান। সকলে ছাড়েন গলা। আবার কবিতা পড়তে আসেন সৈয়দা দিবা। ইয়াসমিন কালাম আর সিরাজুল হকের কণ্ঠে চলে একাধিক রবীন্দ্র সংগীত। দিনের আলো যখন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিলো তখন ভেঙে এই রবীন্দ্র আয়োজন।

প্রসঙ্গত, আরব আমিরাতে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যপাঠ নির্ভর প্রথম এ অনুষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন সঞ্জয় ঘোষ, জাবেদ আহমদ, সাদিকুর রহমান সুনু।