বছর দুয়েক আগেও বাই সাইকেলে করে পত্রিকা বিলি করতেন জুবের আহমদ। একটি দুর্ঘটনায় পড়ে তার পা ভেঙ্গে গেলে বাই সাইকেল চালানো ছাড়তে হয়। এখন পৌরশহরের মধ্যে পায়ে হেঁটে এবং দূরের পথ রিক্সায় যেতে হয়। যার কারণে আগের চেয়ে রোজকার কমে গেছে। তারপরও সংবাদ পত্রের প্রতি অসীম ভালবাসায় শেষ জীবন পর্যন্ত পত্রিকা বিক্রি করে যেতে চান এ সংবাদপত্র কর্মী।

প্রতিদিন সকাল হতে পাঠকের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিতে এক ধরনের তাড়না থেকে ভোরে বিয়ানীবাজার শহরে চলে আসেন জুবের। তার বয়স এখন ৩৭। গত ২৮ বছর থেকে পত্রিকার বিক্রির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। জুবের আর দৈনিক পত্রিকা যেন একে অপরের পরিপূরক।

জুবের বলেন, এখন আর আগের মতো রুজি নেই। শরীরও আগের মতো নেই। তারপরও পত্রিকা বিক্রি করে ছুটে যাই শহর থেকে গ্রামে। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও ভালই ছিল তার পত্রিকা বিক্রি। এখন অনলাইন বের হওয়ায় পত্রিকা বিক্রি কমে গেছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার পৌরশহরের শ্রীধরা গ্রামের মৃত শফিক আহমদ ও রুহিতুন নেসার পুত্র জুবের আহমদ। দীর্ঘ ২৮ টি বছর ধরে প্রবাসী অধ্যুষিত ও সমাজ সচেতন বিয়ানীবাজার উপজেলার অলি-গলিতে সংবাদপত্র বিক্রির মহৎ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় জুবের আহমদ জীবন জীবিকার তাগিদে সেই ছোট বেলায় আসেন এ পেশায়। এর মধ্যে কবে যে তার জীবনের ৩৭টি বছর অতিবাহিত হয়েছে এর কোন খবরই তিনি রাখেননি। কারণ পত্রিকাই তার সব। পত্রিকা বিক্রি ও মানুষের মাঝে বিলি করা যে কত উপভোগ্য পেশা-তা তার অভিব্যক্তি থেকে বুঝা যায়।

তিন সন্তানের জনক জুবের ২০০৫ সাল থেকে প্রতি ঈদে “ঈদ মেলা” নামের বিনোদন পত্রিকা মানুষকে বাড়তি ও অন্যরকম বিনোদন দিতে নিয়মিত প্রকাশ করছেন। এ থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেন। ইতিমধ্যে ঈদ মেলার ২৯টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর এ সৃজনশীল কাজে সহযোগিতা করেন উপজেলার সব রাজনৈতিক নেতাসহ সমাজ ব্যক্তিরা। জুবের বলেন, আমার জীবনের যা কিছু অর্জন তাঁর সবটুকুই সংবাদপত্র থেকে। তাই জীবনের শেষ সময়েও আমি পত্রিকা বিলি করার মতো মহৎ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব।