একদিন আগেও যে মাছবাজারে ছিল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মুখোর পদচারনা, আজ সেই মাছ বাজারে নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহল ও দর কষাকষির হৈ-হুল্লোড়। টানা ১ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে যে মাছ বাজার ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত। আজ সেই মাছ বাজারে পড়ে আছে শুধু মৎস্য ব্যবসায়ীদের তৈরি করা বাশের মাঁচা, পলিথিন-কাপড়ের ছাউনি এবং টেবিল-টুল, ব্যাঞ্চ ও জারসহ দোকানী সরঞ্জামগুলো। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বৈরাগীবাজারের আব্দুল্লাহপুরে গড়ে উঠা মাছ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, ২০১৫ সালে বিয়ানীবাজার পৌর কিচেন মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করতে মাছ বাজার মূল জায়গা থেকে সরিয়ে শহরের প্রধান সড়কে প্রতিস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পৌর কিচেন মার্কেটের ২য় ও ৩য় তলা সবজি ও মাছ ব্যবসা‍য়ীদের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু কিচেন মার্কেটের ২য় তলায় সবজি ব্যবসায়ীরা বসলেও মাছ ব্যবসায়ীরা ৩য় তলায় যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সড়ক ও জনপদ বিভাগ সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের পৌরশহরের মধ্য অংশে টানা ৩ বছর থেকে গড়ে উঠা অস্থায়ী সবজি ও মাছ বাজার গুড়িয়ে দেয়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অস্থায়ী বাজার বসান ব্যবসায়ীরা এবং এতদিন সেখানেই মাছবাজার চলমান ছিল।

এরপর থেকে প্রায় এক বছরের কাছাকাছি সময় ধরে পৌরশহরে কোন মাছ বাজার না থাকায় এবং মাছ বিক্রি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী, পৌরবাসীসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের বেশ কয়েক দফা ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) পৌরশহরে ফের মাছ বাজার প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিসহ শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে পৌরশহরের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ব্যবসায়ীরা শহরে পুনরায় ফিরলেও তারা পৌর কিচেন মার্কেটে উঠেন নি। কিচেন মার্কেটের মোরগগলির পূর্বপাশের পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর একটি ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানেই ব্যবসায়ীদের বসতে দেয়া হয়েছে। নতুন মাছ বাজারে অস্থায়ীভাবে সেড নির্মাণ করে দিয়েছে পৌরসভা। এসময় নতুন মাছ বাজারে ৫০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ীকে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেন। যার ফলে আমরা বৈরাগীবাজারের আব্দুল্লাহপুরের মাছ বাজার থেকে পৌরশহরে ফের মাছ বিক্রি শুরু করেছি। আব্দুল্লাহপুর মাছ বাজার ছেড়ে শহরে প্রতিস্থাপিত হওয়ায় সেই বাজারটি এখন ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য হয়ে গেছে। তারা আরো জানান, কিছু ব্যবসায়ী এখনো ফিরে আসেন নি, তবে আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকেও শহরে আনার চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই তারাও ফিরে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।

মৎস্য ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বলেন, উপজেলাবাসীর ভোগাস্তি দূর করতে এবং দায়িত্বশীলদের সাথে সফল আলোচনার মাধ্যমে আমরা মাছ বিক্রি শুরু করেছি। তিনি সাধারণ ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বাজারে আসেন, আমরা সবার সহযোগিতা চাই।

বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর বলেন, এতোদিন যে দুরত্ব তৈরী হয়েছিল সেটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। একটি পক্ষ আমাদের সাথে মাছ ব্যবসায়ীদের দুরত্ব তৈরী করে রেখেছিল। এটি আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমি সবসময় ব্যবসায়ীদের বলে এসেছি- সবরকম সুযোগ সুবিধা পৌরসভা দেবে, এতে কোন ব্যতয় ঘটবে না। আমাদের প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তুত। তিনি সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ী, উপজেলা ও পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। মাছ ব্যবসায়ীরা ফিরে এসেছেন আমরা তাদের সুন্দর পরিবেশে বরণ করেছি। তিনি আরোও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে যে আলোচনা চালিয়েছি আজ তা আলোর মুখ দেখেছে। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানাই, তিনি নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়টির সমাধানে আস্তরিকভাবে কাজ করেছেন। একইসাথে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মাছ ব্যবসায়ীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি তারা পুনরায় মাছবাজারে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেছেন।