বিদায় জানানোর জন্য একটি মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা ছিলেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। দেশের স্বাধীনতা দিবসে জানিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন। আর এ মাধ্যমে ধোনী যুগের অবসান হলো ভারতীয় ক্রিকেটে।

গত বিশ্বকাপের পর থেকেই তাঁর অবসর নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। কতবার সাংবাদিক থেকে ভক্ত সবার মুখ থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অবসর কবে নিচ্ছেন এ রকম প্রশ্ন তাকে শোনতে হয়েছে। অবশেষে অবসর নিলেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাও দেশের স্বাধীনতা দিবসের দিন।

 

 

শনিবার এক ইন্সটাগ্রাম পোস্টে ৩৯ বছর বয়েসী ভারতের সফলতম অধিনায়ক দেন এই ঘোষণা, ‘শুরু থেকে এখন অবসর নেওয়া পর্যন্ত আমাকে সমর্থন ও ভালোবাসা জানানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

পোস্টের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সম্পাদিত ছবির এক ভিডিও জুড়ে দেন ধোনি। তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের নানান মুহূর্তের সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল হিন্দি গান, ‘ম্যা পাল দো পাল ক্যা শায়ের হো/পাল দো পাল ম্যারি কাহানী হ্যা।’

এই ঘোষণার ফলে গত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ৩৫০তম ওয়ানডেই হয়ে থাকল ধোনির শেষ ম্যাচ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও বরাবরের মতই এবারও আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তার। চেন্নাই সুপার কিংস ২০২২ সাল পর্যন্ত রেখেছে তাকে।

 

 

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ধোনি। এরপর ২০১৭ জালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন বিরাট কোহলির কাছে।

১৬ বছরের ক্যারিয়ারে কিপার ব্যাটসম্যান ধোনি ভারতকে এনে দিয়েছেন চূড়ান্ত সাফল্য। তার নেতৃত্বে ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ২০১১ সালে ধোনি ভারতকে এনে দেন দ্বিতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০১৩ সালে ধোনির অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছিল ভারত। তিনটি আইসিসির টুর্নামেন্ট জেতা একমাত্র অধিনায়কও তিনি।

অধিনায়কত্বের মুন্সিয়ানার পাশাপাশি পারফরম্যান্সেও চূড়ায় ছিলেন এই ডানহাতি। ৫০.৫৭ গড়ে ওয়ানডেতে করেছেন ১০ হাজার ৭৭৩ রান। পঞ্চম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে করেন ওয়ানডেতে ১০ হাজারের বেশি রান। এই ফরম্যাটে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ২২৯টি ছক্কার রেকর্ডও তার।

 

 

২০০৭ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের কাছ থেকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পান ধোনি। সব মিলিয়ে ২০০ ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫৫ শতাংশ জয় আছে তার। (১১০ জয়, ৭৪ হার, ৫ টাই, ১১ ম্যাচে রেজাল্ট হয়নি)।

উইকেটকিপার হিসেবে সব সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮২৯টি ডিসমিসাল ধোনির। তার চেয়ে বেশি ডিসমিসাল আছে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ৯৯৮ ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ৯০৫টি।

 

 

চড়া সবজির সঙ্গে দাম বাড়ল ডিমের, দাম কমেছেমুরগির