আজ সোমবার শ্রমিক অধিকার আদায়ের দিন মহান ‘মে দিবস’। কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের রক্তাক্ত গৌরবময় দিন আজ। অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এবার মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক গড়বো দেশ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’।

শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিনেও এসব মানুষরা বসে নেই। দিনশেষে পকেটে টাকা জুটলে তবেই যে আহার জুটবে! গ্রীস্মের খরতাপের মধ্যে মাথার ঘাম ফেলতে হচ্ছে তাদের। তাদেরই একজন ইদ্রিস আলী। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে বিক্রি করেন। এসব পণ্য বিক্রি করার পূর্বে তাপদাহ উপেক্ষা করে ক্রেতার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ৭ কন্যার জনক ইদ্রিস আলী জানেন না মে দিবস কি। তার একটাই কথা, কাজ করে বিকেল হলে পকেটে টাকা আসলে সন্তানদের জন্য চাল-ডাল কিনে নিতে পারবো। একদিন বসে থাকলে এ ক্ষতি কোনভাবে পুষানো যায় না। তার কাছে বছরের সবগুলো দিন সমান। বিশেষ দিন বলতে কিছুই নেই।

এদিকে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে মে দিবস পালনে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিয়ানীবাজার পৌরশহরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন মহান মে ;দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবিতে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে অর্ধশত শ্রমিক হতাহত হন। এ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। এর তিন বছর পর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।