নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস মালিক-শ্রমিকদের ‘অঘোষিত ধর্মঘটে’র অবসান হচ্ছে। সোমবার থেকে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হচ্ছে। রোববার রাতে যানবাহন চলাচলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ। বিয়ানীবাজার ও সিলেট থেকে দূরপাল্লার বাস সার্ভিস ছাড়াও সিলেট জেলাধীন বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় স্বাভাবিকভাবে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ শ্রমিক নেতারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ শে জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিক্ষব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসে। মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। একই সাথে সরকারের কাছে ৯টি দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক ও সুশাসনের দাবিতে টানা ৭দিন থেকে সড়কে রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামায় সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত শুক্রবার থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সারা দেশে সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বাঁধা দেয়। এর রেশ বিয়ানীবাজারসহ সিলেটেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দায়িত্বশীলরা। তাদের বিধি-নিষেধের কারণে বিয়ানীবাজার ও সিলেটসহ বিভাগের সব শহর থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিয়ানীবাজার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়। সকাল, বিকাল ও রাতে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো গত শুক্রবার থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পৌরশহরের এক পরিবহণ শ্রমিক নেতা জানান, গত রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে আমাদেরকে অবগত করা হয়েছে। মূলত শ্রমিক ফেডারেশন সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই আমাদের জানিয়েছিল বলেই আমরা ধর্মঘট পালন করেছি। তবে এখন থেকে দূরপাল্লার বাসসহ ছোট-বড় সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।