এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুখোমুখি হবে দুই দল। চোটে ছিটকে গেছেন তামিম ইকবাল। বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে মুশফিকুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে। গুরুত্বহীন এই ম্যাচে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েই দল গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারপরও জয়ের আশা ছাড়ছে না মাশরাফির দল। এদিকে দেরাদুনে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশকে হুঙ্কার দিয়েছে আফগানরা।

ম্যাচটি গুরুত্বহীন হলেও দুবাই ক্রিকেট একাডেমিতে দুই দলই পাশাপাশি অনুশীলন করেছে, ক্রিকেটারদের দেখা গেছে গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করতে। অনুশীলনের এক ফাঁকে আফগান কোচ ফিল সিমন্সকে দেখা গেলো মাশরাফির সঙ্গে খুঁনসুটিতে মাততে। মাশরাফি দুষ্টুমি করেই বললেন, ‘তোমরাতো জিতেই যাচ্ছ।’ আফগানিস্তান কোচ হাসতে হাসতে মাশরাফির বুকে বুক মিলিয়ে বিদায় নিলেন। কে বলবে আজ সন্ধ্যায় ২২ গজে লড়বে দুটি দল!

র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে আফগানরা। এর মধ্যে ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ দল হয়ে উঠেছে অনেকটাই তারুণ্য নির্ভর। শান্ত, মিঠুন, মোসাদ্দেক, মুমিনুল, রনিদের উপরই নির্ভর করছে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফল। যদিও বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এই ম্যাচ নিয়ে ভাবছে না। দলের ভাবনা জুড়ে কেবল শুক্রবারের ভারত ম্যাচ নিয়ে। কেন না এই ম্যাচটি এখন হয়ে পড়েছে নিয়মরক্ষার। তারপরও র‌্যাংঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে কোনোভাবেই হারতে চাইবেন না মাশরাফিরা, ‘আমরা যতই শুক্রবারের ম্যাচটি নিয়ে ভাবি না কেন। কালকের (বৃহস্পতিবার) ম্যাচটি তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এখানেও আমাদের ভালো খেলতে হবে। শরীরিক দিক মাথায় রেখেই সেরাটা দিতে হবে।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী এগিয়ে বাংলাদেশ। দুই দলের পাঁচবারের দেখায় জয়ের পাল্লা তাদের দিকে। ওয়ানডেতে তিনবার জিতেছে তারা, দুইবার আফগানিস্তান। যদিও কুড়ি ওভারে ক্রিকেটে গত জুনে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। ভিন্ন ফরম্যাট হলেও আফগান স্পিন জুজু সঙ্গী করে নিয়েই মাঠে নামতে হবে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মাশরাফি অবশ্য ব্যাটসম্যানদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সাহসী ক্রিকেট খেলার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

স্পিন আফগানরা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে আছে নির্দ্বিধায়। তবে তামিম-মুশফিক কিংবা সাকিবের অনুপুস্থিতি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে তরুণ ব্যাটসম্যানকেই। মাশরাফি তরুণদের প্রতি বার্তা না দিলেও তাদের কাছ থেকে দারুণ কিছু আশা করছেন, ‘ঢাকা লিগ বা বিপিএলের মতো খেলুক। ওরকম মানসিকতা নিয়ে উপভোগ করতে পারলে দারুণ কিছু হবে। বিশেষ কোনও বার্তা দিতে চাই না। কারণ তাহলে চাপ নিয়ে নিতে পারে। উইকেটে গিয়ে উপভোগ করুক। সেটা যদি করতে পারে, তারা যদি নিজেদের চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তাহলে ভালো অবশ্যই করতে পারবে।’

বাংলাদেশ দলই আফগানিস্তানকে সমীহ করলেও আফগানরা এক প্রকার হুঙ্কারই দিয়েছে। হয়তো তিন মাস আগে খেলা টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফলই তাদের আত্মবিশ্বাসের যোগান দিচ্ছে। অনুশীলন শেষে আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে। এই ধরনের কন্ডিশনে বাংলাদেশ খেলে অভ্যস্ত নয়। আমরা এখানে বহু ম্যাচ খেলেছি। বাংলাদেশ তাই আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ জিততে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

সত্যিই তাই, বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার ব্যাপার এই কন্ডিশন। এত গরমে খেলার অভিজ্ঞতা নেই টাইগারদের। তার ওপর প্রথমবারের মতো আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ের অভিষেকের মতো আবুধাবিতেও রাঙাতে পারে কিনা এরই অপেক্ষা বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। কেবল তারাই নন, আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রস্তুত মরুর দেশে আরও একবার জয়ের উৎসবে মেতে উঠতে।

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি ও মাছরাঙা চ্যানেল।