সিএনজি অটোরিকশায় গ্রীল সংযোজনের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৬ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেটে আজ সোমবার (২১ ডিসেম্বর) ও কাল মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) কর্মবিরতি পালন করবে সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা, অটো টেম্পু, টেক্সি, টেক্সিকার মালিক সমিতি। এদিকে, পাথর কোয়ারিসমূহ খুলে দেওয়ার দাবিতে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগে সকল প্রকার পরিবহন ধর্মঘট আহবান করেছে গণ ও পণ্যপরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন।

সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ দৈনিক জালালাবাদ কে বলেন, গ্রীল সংযোজনের সিদ্ধান্ত বাতিল একটি মীমাংসিত বিষয়। ঢাকা চট্টগ্রাম ছাড়া অধিকাংশ জেলায় সিএনজিতে গ্রীল নেই। আমরা বিগত দিনে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল আব্দল মুহিতের সাথে আলাপ করে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। সেসময় সিদ্ধান্ত হয় অন্যান্য জেলায় গ্রীল কার্যকর করার পর সিলেটে তা বাস্তাবায়ন করা হবে। এরপর কিছুদিন এ বিষয় নিয়ে কথা বন্ধ ছিলো। বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সাহেবের সাথেও আমরা বৈঠক করেছি, তিনিও আমাদের পাশে আছেন। কিন্তু প্রশাসন আমাদের পাশে নেই। মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও তা বন্ধ করা হচ্ছে না।

এছাড়া প্রাইভেট গণপরিবহন (কার, মোটর সাইকেল) বন্ধ করতে হবে। কিছু শোরুম থেকে কিস্তির লোভে সিএনজি অটোরিকশা কিনে প্রতারণা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা দাবি করেন জাকারিয়া। তিনি বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা কেনার পর শোরুম নিজ দায়িত্বে কাগজপত্র তৈরি করে দেয়ার কথা থাকলেও কিস্তিতে গাড়ি বিক্রি করার শর্তে এই কাগজ পত্রের ঝামেলা ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপায় শোরুমগুলো। গাড়ির কাগজপত্রের জটিলতা অন্যদিকে কিস্তির টাকা জমা দিতে বাধ্যহয়ে অনটেস্ট গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা। এছাড়া সিলেটে সড়কের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি, তাই নতুন গাড়ি না বাড়ানোর লক্ষ্যে শোরুমগুলো বন্ধ করতে হবে।

সিলেট নগরীতে গণপরিবহনের জন্য কোনো পার্কিংয়ের জায়গা নেই উল্লেখ করে জাকারিয়া বলেন, গাড়ি পাকিংয়ের জায়গা নেই। তাই বাধ্যহয়ে আমাদের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করতে হয়। বছর শেষে আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি, কিন্তু আমাদের এই সেবাটুকু নিশ্চিত করতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। এসব দাবী কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না জানতে চাইলে জাকারিয়া বলেন, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনটিতে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। আঞ্চলিক পরিবহণ কমিটিতে আমাদের সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি নেয়া হয়নি। আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সাথে বৈঠক করে পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রতিনিধি না থাকায় আমাদের দাবী উত্থাপনের সুযোগ হয় না। এখন আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিতে আমাদের সংগঠনের প্রতিনিধি চাই। এছাড়া, মেট্রোসিটির আওতাধীন মহাসড়কগুলোতে গাড়ি চালানোর অনুমতি চায় সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবী আদায় না হলে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সভা শেষে সিলেট মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।

সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারিসমূহ খুলে দেওয়ার দাবিতে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগে সকল প্রকার পরিবহন ধর্মঘট আহŸান করে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রæপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল জানান, সিলেটের পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫ লক্ষ মালিক-শ্রমিক অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিবহন ব্যবসাসহ সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে বৃহত্তর সিলেটের অর্থনৈতিক অবকাঠামো। ইতোমধ্যে পাথর কোয়ারী খুলে দিতে বিভিন্ন দফতরে স্মারকলিপি ও সিলেট জেলায় ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। এরপরও কোয়ারী খুলে দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে ১৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবন রক্ষার্থে ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগে সকল প্রকার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ইউপি নির্বাচন নিয়ে 'এবিটিভি'র বিশেষ আয়োজন ‘ভোটের হাওয়া’।। ৭ম পর্বে শেওলা ইউনিয়ন