জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের গনিপুর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। গ্রামের মধ্য দিয়ে যে প্রধান রাস্তাটি রয়েছে, সে রাস্তা দিয়ে গনিপুর ও গোয়াবাড়ি দুটি গ্রামের হাজারো মানুষ, যানবাহন এবং মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীর।

রাস্তার পাশ দিয়ে ‘গনিপুর খাল’ প্রবাহিত ছিল এক সময়। বর্তমানে দখল ও দুষণের কবলে খালটি। খালের গভীরতা না থাকায় পানি প্রবাহিত হতে পারে না। গনিপুর গ্রামের পূর্বের ফসলি জমির সম্পূর্ণ পানি এ খাল দিয়ে আগে প্রবাহিত হতো। এখন সেসব জমিতে জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। দুটি বাড়ির মধ্য দিয়ে পানির যে নালা ছিল, সেটিও ছোট করা হয়েছে। বিরাট খালের দু’পাশে মাটি ভরাট করার কারণে খাল সংকীর্ণ হয়েছে। কেউ কেউ খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, কেউ খালের উপর বসতঘর তৈরি করেছেন, আবার কেউ পুকুর খনন করেছেন। গ্রাম্য জেলেরা মাছ ধরার জন্য খালের কয়েকটি স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছেন। ফলে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট পানিতে থৈ থৈ করে সামান্য বৃষ্টিতেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ফছু উল্লাহর ছেলে আয়নুল হক তার বাড়ির প্রবেশের পুলের নিচে এবং মোছর আলীর ছেলে নজমুল হোসেন বাড়ির সামনে খালে বাধ দিয়ে রেখেছেন। আহমদ আলীর ছেলে রাসুম আহমদ খালের উপর ঘর নির্মাণ করেছেন। জাকির হোসেন জকুর টয়লেটের ময়লা বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায়। গাড়ি যাতায়াতের কারণে রাস্তার মাঝে বিশাল বিশাল গর্ত হয়েছে, যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
রাস্তাটির যে স্থানটি বৃষ্টি হলে প্রথমেই পানিতে তলিয়ে যায়, সেখানে রয়েছে গণিপুর দক্ষিণ জামে মসজিদ ও গনিপুর পশ্চিম জামে মসজিদ । মুসল্লিরা নর্দমার পানির উপর দিয়ে মসজিদে নামাজে যেতে বাধ্য হন। এর পাশেই রয়েছে গনিপুর ছাহেব বাড়িতে হাবিবিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা। মাদরাসার পাশে রয়েছে হযরত আল্লামা গনিপুর (রহঃ) এর মাজার শরীফ। প্রতিদিন দুরদুরান্ত হতে অনেক লোক মাজার জিয়ারত করতে আসেন। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বহু কষ্ট করে মাদরাসায় যাতায়াত করেন। গনিপুর ছাহেব বাড়ির একটু উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে হযরত হাছু শাহ (রহঃ) এর মোকাম। এই গ্রামেই রয়েছে গনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামের পাশেই বিদ্যমান গনিপুর কামালগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ। দুটি প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিদিন নর্দমার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। ২০১৯ সালে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দায়সারা গোছের কাজ হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান।
গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবী, সচিব, সৈনিক, বিজিবি, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধার্মিক, ডাক্তার, প্রবাসী, আলেম-উলামা,রাজনীতিবীদ অনেকই রয়েছেন। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী এ গ্রামেরই সন্তান।
স্থানীয়দের দাবী খালটি দখলমুক্ত করে খাল খনন ও রাস্তা কার্পেটিং করা। ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সোবহান বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাাস্তাটি ইট সলিং করা। বৃষ্টি হলে কিছু অংশ পানিতে ডুবে যায় এতে মানুষের কষ্ট হয়। কিছু জায়গা ভাঙ্গাও। বরাদ্ধ পেলে রাস্তটি মেরামত করা হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই রাস্তাটির প্রায় আধা কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই করে পাকা করা হয়েছে। বাকী অংশটুকুর কাজ হয়ে যাবে। এটি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। খাল খনন একটি বড় প্রজেক্ট। সময় সুযোগ মতো খালটিও খননের চেষ্টা করা হবে।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

শিগগিরই আসছে টিকার গ্রহণের বয়স সীমা ১৮ বছরে- বিয়ানীবাজারে টিকা নিতে দীর্ঘ সারি