মাথিউরা ইউনিয়নের পশ্চিম হাওরের এ ছবি তুলেছেন – রাফি

বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ০৭ এপ্রিল ২০১৭।

প্রান্তিক কৃষকের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে অবশেষে হাওরের বুক থেকে নামছে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টির পানি। আগাম বন্যার আভাস দিলেও অতিবর্ষণ থামতেই পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও কৃষককুলের মুখে হাসি নেই। গত ছয় দিনের টানা বৃষ্টি তাদের হাসি কেড়ে নিয়েছে। একই সাথে গোয়ালভরা ধানের স্বপ্নকেও নিয়েছে ভাসিয়ে।

একদিন বিরতী দিয়ে আজ শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি নামে। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস গত কয়েখ দিনের মতো অতিবর্ষণ এই কয়েক দিনের মধ্যে হবে না। বৃষ্টি থেমে দুপুর ১টার পর থেকে আবার রোদ্র উজ্জল আবহাওয়ায় জনজীবনের নেমে আসে স্বস্থি।

মাথিউরা চাষি আব্দুল জলির দশ বিঘা বোরো আবাদ করেছিলেন। সবে ধানে শীষ (তুড়) আসতে শুরু করার সময় অনাহুত বৃষ্টি নামে। টানা বৃষ্টিতে চোখের সামনে রক্ত পানি করা ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। জলিল বলেন, ‘চইত মাসো ইতা মেঘ মোর জিন্দেগীতে দেখী নাই। ইতা মেঘ না আল্লার গজব। আগোর দিন বিকালে ধান গাছ  আদাখান বাউরা আছিল, বাদোর দিন বিয়ানে গিয়া দেখী ফানিত ডুবি যার ডুবি যার অবস্থা। তখন-উ বুঝছি ইবার আর ধান পাইতাম নায়।’

চৈত্র মাসের অতিবৃৃষ্টিতে বিয়ানীবাজারের প্রাঢ সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি ব্যাপক প্রভাব ফেলে জনজীবনে। পৌরসভাও হয়ে পড়ে জলাবদ্ধতায় নাকাল। প্রধান সড়ক থেকে গ্রামীন সড়ক- সবগুলোতেই জমে থাকে বৃষ্টির পানি।

বৃষ্টি পানি নামতে শুরু করলে এতে ক্ষতিগ্রস্থ বোরো ধানের কোন লাভ হবে না। তবে যেসব উচু এলাকায় এখনো বোরো ধান তলিয়ে যায়নি সেসব এলাকার কৃষকরা লাভবাস হবেন- একথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাসের। তিনি বলেন, এবার সব জাত মিলিয়ে বিয়ানীবাজার ৬ হাজার হেক্টর বোরো ধান আবাদ হয়েছে। যার এক তৃতীয়াংশ তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে।