২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশের ন্যায় বিয়ানীবাজারেও মহাসমারোহে উদযাপিত হয় মহান বিজয় দিবস। এদিন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ির ছাদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পতপত করে ওড়েছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। নিয়ম অনুযায়ী ওইদিন সব সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় এবং সূর্যাস্তের আগেই তা নামিয়ে ফেলা হয়।

ঠিক এভাবেই বিজয় দিবস উদযাপন করতে এদিন জাতীয় পতাকা উড্ডয়ন করেছিল বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার বশির উদ্দিন, ছফুর উদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস ফুটবল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লাবের উড্ডয়ন করা সেই পতাকা আড়াই মাসেও নামানো হয়নি। দিবারাত্রি উড়ন্ত রয়েছে সেই পতাকাটি। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি কিছুদিন ধরে প্রায়ই কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঘুরতে যান বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ব্যবসায়ী ইমাম হাসনাত সাজু। জয়নগরের বশির উদ্দিন, ছফুর উদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস ফুটবল ক্লাবের সামনে দিয়ে অনেকবার যেতে হয়েছে তাকে। বেশিরভাগ সময় দিনেই এই ক্লাবের সামনে যাবার সময় তিনি জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) বিকালে ক্লাবের পাশের এক দোকানীকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, ‘ক্লাবের জাতীয় পতাকাটি ১৬ ডিসেম্বর উড়ানো হয়েছে। এরপর থেকে দিনরাত উড়ছে। কেউ নামাতে আসে না।’ পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি আবারও এই এলাকায় যান। দেখতে পান তখনো উড়ানো অবস্থায় রয়েছে। তখন তিনি আরও কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। রাত ৮টার দিকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।

‘বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’ এর পাঠকদের জন্য ইমাম হাসনাত সাজুর সেই ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো- 

জাতীয় পতাকার অবমাননা: জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়। এটি দেশের স্বাধীনতার প্রতীক।বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজারের ফুটবল ক্লাবটিতে গত ১৬ই ডিসেম্বর থেকে দিবারাত্রী ২৪ ঘন্টা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত রয়েছে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা উত্তোলিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততম প্রধান সড়কের ক্লাবটি এর ব্যতিক্রম।যে কোন দেশের পতাকা অবমাননা করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। কবির ভাষায়- জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন-কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

উল্লেখ্যঃ স্বাধীনতা পরবর্তীকালে, ১৯৭২ সালে পতাকা আইন করা হয়েছিল। ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনটি সংশোধিত হয়, যার পেছনে মূল পর্যবেক্ষণ ছিল বিশেষত নাগরিকদের অজ্ঞতার কারণে জাতীয় পতাকার অবমাননা। সংশোধনীতে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত শাস্তি এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়। না জেনে, না বুঝে আর অতি-উচ্ছ্বাসে যারা পতাকার ব্যবহারবিধি লংঘন করেন, তাদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এ শাস্তিবিধান যথাযথ হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বাণিজ্যিক প্রচারণায়, বিজ্ঞাপনে জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধিবহির্ভূতভাবে করে থাকে, সে জন্য ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ন্যায়সঙ্গত নয়। অপরাধের মাত্রা ভেদে অর্থদণ্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করার আইনি বিষয়টি রাষ্ট্র বিবেচনায় আনতে পারে।

এদিকে, ব্যবসায়ী ইমাম হাসনাত সাজু ‘বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’ এর আলাপকালে জাতীয় পতাকার অবমাননাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বৈরাগীবাজার এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি আজব আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই ক্লাবটির কোন কার্যক্রম বর্তমানে নেই বললেই চলে।  জাতীয় পতাকা উড়ানো ও নামানোর নিয়ম জানা না থাকার কারনে হয়তোবা কর্তৃপক্ষের এই ভুলটি হয়েছে। আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করে জাতীয় পতাকা নামানোর জন্য বলবো। ‘

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক নূর বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে জন্ম নিবন্ধন পেতে ভোগান্তি, অবিভাবকরা দুশ্চিন্তায়