সিলেট সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নেই দুই বছর ধরে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এই কলেজের অধ্যক্ষ অবসরে যান। এই কলেজে উপাধ্যক্ষ পদও নেই। তাই একজন সহযোগী অধ্যাপক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু সিলেট সরকারি কলেজই নয়, সিলেট বিভাগের ১৫টি সরকারি কলেজের মধ্যে ছয়টিই চলছে অধ্যক্ষ ছাড়াই। দুটি কলেজে উপাধ্যক্ষের পদও শূন্য রয়েছে। অধ্যক্ষ্যহীন কলেজগুলোর কার্যক্রম তাই উপাধ্যক্ষ দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। কোনোটিতে আবার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দুটি পদই শূন্য। এছাড়া পদ শূন্য রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেটের পরিচালক ও সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এবং হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। বৃন্দাবন সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষের পদও খালি। সেখানেও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে চুনারুঘাট সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ থাকলেও নেই উপাধ্যক্ষ।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক নানারকম বঘ্ন ঘটছে। বড় কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে নেতৃত্ব সংকটে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন কোনো রকমে দৈনন্দিন কাজ চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে অবসরে যান শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মো. মহসিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে গত ২৮ জুন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অবসরে গেলে উপাধ্যক্ষ তারেকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা জানান শীঘ্রই এই শূন্য পদ পূর্ণ হয়ে যাবে।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. মহসিন বলেন, ‘এই শূন্য পদ শুধুমাত্র সিলেট নয়, সারা বাংলাদেশ জুড়েই রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই শূন্য পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে বলে জানতে পেরেছি।’

তবে করোনার প্রাদুর্ভাব থাকলেও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। তাই শূন্য পদ পূরণে করোনা কোনো অজুহাত হতে পারে না বলে মনে করেন মাউশি সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চন্দ্র চৌধুরী। কী কারণে নিয়োগ বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। মন্ত্রণালয় যখন নিয়োগ দেয়, তখনই শূন্য পদগুলো পূরণ হয়। তাই সিলেটের শূন্য পদগুলো কবে পূরণ হবে, সেটা সঠিক আমরাও বলতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটের কলেজগুলো যেমন অধ্যক্ষ উপাধক্ষ সংকটে ভুগছে, তেমনি সিলেটের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও পরিচালকহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় চার মাস ধরে পরিচালকের পদ শূন্য। সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানও নেই প্রায় এক বছর ধরে। মন্ত্রণালয় থেকে যখন নিয়োগ দেওয়া হবে তখনই এসকল শূন্য পদ পূরণ হবে।’

সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও মাউশি পরিচালক এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান নিয়োগের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয় যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি না থাকায় কলেজগুলোর শীর্ষ এই দুই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমসি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘কলেজগুলোতে প্রশাসনিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কাজগুলো অধ্যক্ষের নেতৃত্বে হয়ে থাকে। সেখানে নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকলে সমস্যা হবেই। আর আর্থিক কোনো বিষয় থাকলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষরা দায়িত্ব নিতে চান না। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মোকাবিলা করা। সেটাও নিয়মিত অধ্যক্ষ ছাড়া সম্ভব নয়। করোনাকালে অনলাইনে ক্লাসের বিষয়টি সমন্বয়ের জন্যও নিয়মিত অধ্যক্ষ থাকা দরকার।’