২৪শে মে, ২০১৯ ইং | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি- ২বছরে নিখোঁজ বিয়ানীবাজারের ৭ তরুণ

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/05/23332.jpg?resize=1200%2C630

মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে যেতে চায় সিলেটের তরুণরা। এ প্রবনতা বেশি জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার তরুণদের মধ্যে। স্বচ্ছল জীবনের খোঁজে ইউরোপ পাড়ি দিতে এ পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন সাত তরুণ। গত ১০ মে তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় ৪জন এবং ২০১৮ সালে আরও তিনজন তরুণ নিখোঁজ হয়েছেন।

সবচেয়ে আশ্চর্য্য বিষয়- নিখোঁজ তরুণদের পরিবার এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। আবার এসব পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হওয়া তরুণের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজ হলেও আদাম পাচারকারিদের (দালাল) বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছে আদম পাচারকারিরা।

নিখোঁজদের মধ্য উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের মাইজকাপন গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে আব্দুল হালিম সুজন (৩২) ও চারখাই ইউনিয়নের আদিনাবাদ গ্রামের দুদু মিয়ার পুত্র সুয়েব আহমদ তুহিন (২৮)। গত ৯ মে সুয়েব পরিবারের সদস্যদের সাথে শেষ যোগাযোগ করে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। অপরদিকে একইপথে ইটালী যেতে নিখোঁজ হয়েছে রফিক আহমদ ও রিপন আহমদ নামের আরো দুই যুবক। তবে উপজেলার কোন এলাকায় তাদের বাড়ি এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লিবিয়া থেকে ইটালী যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাঘরে উপজেলার আরো ৩ তরুণ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়া ফতেহপুরের হুমায়ুন রশিদ ইমন (২২), শ্রীধরার ফরিদুল আলম (২৪) ও খাসা গ্রামের ইমরান (৩০) আর ফিরে আসেনি। এসব ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় কোন মামলাও দায়ের করেনি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মুড়িয়া ইউনিয়নের মিন্টু নামের এক দালাল তাদের লিবিয়া হয়ে ইটালী পাঠানোর জন্য চুক্তি করেন। ২০১৮ সালে ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দালাল মিন্টু পলাতক রয়েছে।

নিখোঁজ সুজনের বড়ভাই আব্দুল আলিম জানান, সুজন দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মা-বাবাহীন পরিবারের চার ভাই ও এক বোনের সংসারের হাল ধরতে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার গোয়ালি গ্রামের শাহিন আহমদ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার এলাকার পারভেজ আহমদ নামের এক দালালের সাথে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ১ বছর পুর্বে ইটালি যাবার জন্য চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘদিন লিবিয়াতে অবস্থান করার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সমুদ্র পথে ইটালি যাওয়ার জন্য ট্রলারে চড়ে সেসহ আরো কয়েকজন। ট্রলারে চড়ার পূর্বে সুজন বাড়িতে সর্বশেষ যোগাযোগ করেছে বলে জানান তার ভাই আব্দুল আলিম। নৌকাডুবির ঘটনা জানার পর থেকে আমার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। কেননা ট্রলারে চড়ার পর থেকে এখনো বাড়িতে সে যোগাযোগ করেনি। ভাইয়ের খোঁজ নেয়ার জন্য দালালের সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ করলে পারভেজ নামের ওই আদম ব্যবসায়ী জানান, আমরা সুজনকে ইটালিগামি ট্রলারে তুলে দিয়েছি।

নিখোঁজ হওয়া তরুণদের বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, সাগরে জীবনহানীর জন্য যারা প্রলোভন দেখিয়েছে, সেসব আদম ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা। কোন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে নিবর ভূমিকা পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, লিবিয়ায় এখনো ইটালী যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সিলেটের আরো কমপক্ষে ১২শ’ তরুণ। এদের মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় দেড়শ’ তরুণ সেখানে অপেক্ষা করছে। যারা ঢাকা ও চট্রগাম বিমানবন্দর থেকে কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়ায় পৌছে। লিবিয়া পর্যন্ত পৌছতে তাদের একেকজনকে সাড়ে ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৭লাখ টাকা পর্যন্ত আদম ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

মাথিউরা মিনারাই কারীয়ানা মাদ্রাসায় ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

বিয়ানীবাজার সিঙ্গার শাখার সহকারী ম্যানেজার মান্নার ফেসবুক আইডি হ্যাক

বিয়ানীবাজারের শপিংমলগুলো ক্রেতাশূন্য

জাতীয় রোভার মুটে অংশগ্রহণ করতে নেপাল যাচ্ছে বিয়ানীবাজারের রুমন

বিয়ানীবাজারে বাসায় দাওয়াত করে ভিক্ষুকদের সাথে ইফতার করলেন সাংবাদিক মাসুম

বিয়ানীবাজারে ছাত্র জমিয়তের প্রবাসী সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

ঘোষণাঃ