২৪শে মে, ২০১৯ ইং | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মায়েরা কি মে দিবস বুঝেন! নাকি আমলে নেন না?

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/05/s2s.jpg?resize=1200%2C630

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বুকের রক্ত ঝরিয়ে ছিলেন শ্রমিকরা।আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে সেদিন  শ্রমিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘট পালন ও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে অন্তত ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালন শুরু করে।

মায়েরা কি মে দিবস বুঝেন! নাকি আমলে নেন না? বছরের প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে রাতবধি সংসারকর্মে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। সারা জীবন শ্রমিকের মতো কাজ করে সকল মায়েরা সর্বদা চান সংসার তথা ছেলে মেয়েদের উন্নতি, অগ্রগতি।

আমার মায়ের কথায় আসি- প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মাধ্যমিকে বেশিদূর এগোতে পারেন নি। ১২/১৩ বয়স থেকে বাবা-মায়ের সংসার কাজে পুরু সময় দিতে হয়। ৪ ছোট ভাই বোন থাকায় বড় মামা বাবার উর্পাজনে পর স্বচ্ছলে সংসার চলার জন্য নিজেও উর্পাজনে লেগে যান। মা আমার নানীর সাথে রান্না বান্নাসহ ভাই-বোনদের লালন পালনে মনোযোগী হন। তাদের লেখা পড়ার দিক লক্ষ্য রাখেন। পরবর্তীতে তাঁরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন।

আমার নানার ফার্নিচার ব্যবসা ছিল। শহরের বাইরে বিয়ানীবাজারে প্রথম ফার্নিচার ব্যবসাকে কারখানা থেকে শোরুম কেন্দ্রীক গড়ে তুলেন। এ ব্যবসায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানোর ক্ষেত্রে আমার নানী ও মায়ের যতেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রমিক অথাৎ মেস্তরী চালানো। তাদের বাসস্থান নিশ্চিত ও খাবারের যথার্থ চাহিদা মিটানো। নানার ব্যবসার মেস্তরীদের রান্নাটা নিরলস ভাবে নানীর সাথে মা করে যান। বিয়ের পর আমার বাবার সংসারের রান্নার পাশাপাশি বাবার দোকান শ্রমিকদের রান্না করে খাওয়ানোর ভার পরে। বাবার খাবার হোটেলের ব্যবসা থাকায় কখনো কখনো বাড়িতে বসে হোটেলের টুকিটাকি কাজ করে দিতে হত। পরবর্তীতে আমি ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করলে এখানেও মা মেস্তরিদের রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজ থেকে নিয়ে নেন।

পরিবারের অন্যরা সহযোগিতা করলেও সবকিছু মেন্টেন করেন আমার মা। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রৌদ্রে শুকানোর জন্য উঠান জুড়ে ধান মেলা হয়েছে আর মা ধানগুলো নেড়েছেড়ে দিচ্ছেন। আমার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীকে ডাকলাম মাকে সহযোগিতার জন্য। মা বললেন- ‘তারা পুরিন ইতা পারতা নাও, আমি আস্তে আস্তে পারমু, সুমাইয়ার মা (কাজের মহিলা) কোন ঝামেলার দায় আইছে না। তারা আমার নাতি-নশারে রাখক্কা।’

মে দিবস বলেন আর ঈদের দিন বলেন মায়েদের কাছে ছেলে মেয়েদের সংসার বড়। সংসার প্রশ্নে কখনো ছাড় দেন না। মায়েরা মহান। মহান মে দিবসে সকল মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা।

লেখক- সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী, বিশেষ প্রতিনিধি এবিটিভি।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজার সিঙ্গার শাখার সহকারী ম্যানেজার মান্নার ফেসবুক আইডি হ্যাক

বিয়ানীবাজারের শপিংমলগুলো ক্রেতাশূন্য

জাতীয় রোভার মুটে অংশগ্রহণ করতে নেপাল যাচ্ছে বিয়ানীবাজারের রুমন

বিয়ানীবাজারে বাসায় দাওয়াত করে ভিক্ষুকদের সাথে ইফতার করলেন সাংবাদিক মাসুম

বিয়ানীবাজারে ছাত্র জমিয়তের প্রবাসী সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

বিয়ানীবাজারে পরিবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঘোষণাঃ