২২শে মে, ২০১৯ ইং | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমিরাত থেকে দেশে ফিরলেন বড়লেখার মাসুম, তবে লাশ হয়ে!

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/03/masum.jpg?resize=1200%2C630

স্বজনদের মুখে হাসি ফুটাতে প্রায় দশ বছর আগে সংযুক্ত আরব-আমিরাতে গিয়েছিলেন সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম (৩০)। প্রায় তিনমাস আগেও দেশে এসে ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি। মাসুম আবারও দেশে ফিরেছেন। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে।

সংযুক্ত আরব-আমিরাতের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১০ দিন পর মাসুম ও তাঁর বন্ধু জালালের লাশ বৃহস্পতিবার ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনরা তাদের দুজনের লাশ গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওইদিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাসুমের লাশ দাফন করা হয়।

নিহত মাসুম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঠালতলী গ্রামের সৈয়দ মিছালত হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে নিহত জালাল আহমদের (৩০) বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব গায়ালজুন গ্রামে। তিনি ওই এলাকার সিফাত উল্লাহর ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জানাজা শেষে জালালেরও লাশ দাফন করা হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফুজিরা-দিব্বা রোডের তুইন নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সড়ক গুরুতর আহত হন মাসুম ও তাঁর বন্ধু জালাল আহমদ। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা দুজনই মারা যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভীড় করছেন স্বজন ও বন্ধুরা। ছেলে মাসুমকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মাসুমের স্ত্রীও। তাদের সান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেশিরা। তারাও মাসুমের এমন মৃত্যুতে শোকাহত।

নিহত মাসুমের পরিবার সূত্রে গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় দশ বছর আগে সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম (৩০) সংযুক্ত আরব-আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাসুম বড় ছিলেন। তিনি একবছর আগে দেশে এসে বিয়েও করেছেন। সর্বশেষ প্রায় তিনমাস আগেও তিনি দেশে এসে ঘুরে গিয়েছিলেন।

মাসুমের চাচাতো ভাই সৈয়দ মিহান জানান, প্রায় তিনমাস আগে মাসুম ভাই দেশে এসেছিলেন। কে জানতো এটাই হবে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা। কখনো ভাবিনি তিনি এভাবে লাশ হয়ে দেশে ফিরবেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে দিব্বায় ফিরছিলেন সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম ও তাঁর বন্ধু জালাল আহমদ। ফুজিরা-দিব্বা রোডের তুইন নামক স্থানে পৌঁছামাত্র তাদের গাড়িটির চাকা নষ্ট হয়ে যায়। এসময় গাড়িটি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে চাকা লাগাতে গেলে দ্রুত গতির একটি ল্যান্ডক্রুজার তাদের গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের আহতবস্থায় উদ্ধার করে দিব্বা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুম ও জালাল মারা যান। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুজনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

নালবহর ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট ইউকে'র উদ্যোগে অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ

গোলাপগঞ্জে ভেজাল বিরোধী অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিয়ানীবাজারে ছাত্র জমিয়তের প্রবাসী সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল কাল

নালবহরে ক্বিরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন

সাবেক ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ পর্যালোচনা- সেমিফাইনালের চার দলে নেই বাংলাদেশ!

কোপায় মেসির সঙ্গী আগুয়েরো-দিবালা, নেই ইকার্দি

ঘোষণাঃ