১৯শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন- যেমন জনপ্রতিনিধি চান নতুন ভোটাররা

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/03/53278925_2216195941979450_6087869714036424704_n.jpg?resize=1200%2C630

জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন, যে নির্বাচনই হোক- প্রচারণার মাঠে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। আর তা যদি হয় স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, তাহলে তো আর কথাই নেই। সাধারণ জনগণ তথা ভোটাররাও কষতে থাকেন নানা হিসাব- নিকাশ। তারাও ব্যস্ত হয়ে পড়েন পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টায়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাকে বেছে নেবেন- ভোটারদের মনে চলছে এরকম হিসাব- নিকাশ। এরকম হিসাব-নিকাশের বাইরের নন নতুন ভোটাররাও।

আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এসেও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। বিয়ানীবাজার একটি প্রবাসী অধ্যূষিত সমৃদ্ধ উপজেলা হওয়ায় এখানকার প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, নতুন ভোটারদের প্রত্যাশা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক হিসাব- নিকাশ একটু ভিন্ন। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। চোখে তাদের এখন অনেক স্বপ্ন আর প্রত্যাশা।

নতুন ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, নতুন ভোটারদের বৃহৎ একটি অংশের কাছে দলীয় প্রার্থীর মূল্যায়ন অনেকাংশেই গুরুতপূর্ণ। দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মধ্যে দলীয় নির্দেশনা, আদর্শ ও আবেগ-অনুভূতি জড়িত বলে তারা মনে করছেন। তাছাড়া প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হওয়ায় নিজের দলীয় প্রার্ত্থীকের পছন্দসহ প্রতীকে নির্বাচিত করতে চান তারা। অপরদিকে, আরেকটি পক্ষের কাছে দলীয় প্রতীক খুব একটা বিবেচ্য বিষয় নয়। তাদের কাছে বিবেচ্য বিষয় হলো- প্রার্থীদের জনদরদি মনোভাব। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার ব্যাপার তো থাকছেই। তবে নতুনরা ভোটাররা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের দলীয় কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান।

রেদওয়ান হোসেন নামের এক নতুন ভোটার জানান, তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন- এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে এখানকার তরুণদের জন্য বিয়ানীবাজারকে সুন্দর করার জন্য যেসব প্রার্থী ভাববেন, তাদের পক্ষেই অবস্থান থাকবে তাদের।

সামাদ আহমদ চৌধুরী নামের আরেক নতুন ভোটার জানান, দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিগত মেয়াদে এই এলাকারও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সেইসঙ্গে অবৈতনিক লেখাপড়া সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তারা জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। আগামীতেও যেসব প্রার্থী এই ধরনের সুযোগ-সবিধার কথা বিবেচনায় রাখবে- এমন প্রার্থীদেরই নির্বাচিত করবো।

কাউছার আহমদ নামের একজন নতুন ভোটার জানান, ভোট না দিলে তো আমার পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে পারবো না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দলবেঁধে ভোট দিতে যাবো। প্রার্থীর যোগ্যতা, আচার-আচরণ এবং কতটুকু উন্নয়ন বিগত দিনে করেছেন এবং আগামীতেও কেমন উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন- সেসব দিক বিবেচনা করেই ভোট দেবো।

মাসুম নামের আরেকজন জানান, বিয়ানীবাজার উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে আমার ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে দল বা প্রতীক কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। কারণ, এটা স্থানীয় পর্যায়ের একটি নির্বাচন। এখানকার স্থানীয় উন্নয়নে যারা ভূমিকা রাখবেন, দল-মতের উর্ধ্বে উঠে যারা কাজ করবেন, যারা ব্যক্তি হিসেবে ভালো এবং যোগ্য- আমি তাদেরকেই ভোট দেবো।

এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে বসে নেই প্রার্থীরাও। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও মনোনয়ন বঞ্চিত  সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীদের খাওয়া- ঘুম অনেকটাই উবে গেছে বলা যায়। ভোটারদের মন জয় করে কাছে টানতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১লক্ষ ৭০হাজার ৬শত ১৫জন। তার প্রচারণার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে প্রার্থীদের।

উল্লেখ্য, অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও ৩জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৩জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রার্থী হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আতাউর অহমান খান (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব (হেলিকপ্টার), মোঃ জাকির হোসেন (আনারস), শামীম আহমেদ (মোটরসাইকেল), মোঃ আবুল হাসনাত (দোয়াত কলম) ও মোঃ আলকাছ আলী (ঘোড়া)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী হচ্ছেন- খছরুল হক খছরু (চশমা), মোঃ জামাল হোসেন (তালা) ও মামুনুর রশীদ খান (টিয়াপাখি)। এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী হচ্ছেন- রোকশানা বেগম লিমা (ফুটবল), হাসিনা আকতার (হাঁস) ও জাহানারা বেগম ছাদিয়া (কলস)।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

শামীমের ফেইসবুক স্ট্যাটাস নির্বাচনের নামে প্রহসনের রাজনীতি বন্ধ করুন

সিলেটে বেড়াতে এসে ট্রাক চাপায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-ছেলে নিহত

আতাউর রহমান খান'র বাড়িতে আবুল কাশেম পল্লব!

মুড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রব এর ইন্তেকাল।। বিভিন্ন মহলের শোক

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন- জামানত বাজেয়াপ্ত হলো যাদের

ফলাফল ঘোষণা শেষে দক্ষিণ বিয়ানীবাজারে হাজারো মানুষের বিজয় উল্লাস

ঘোষণাঃ