২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বড়লেখার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলী স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও প্রাপ্ত সম্মান থেকে বঞ্চিত

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/01/IBRAHIM-ALI-BARLEKHA.jpg?resize=1200%2C630

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধে সশস্ত্র অংশগ্রহণ করেন বড়লেখার হরিপুর গ্রামের তৎকালিন আনছার কমান্ডার ইব্রাহিম আলী। মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণের নানা দালিলিক প্রমাণ থাকা স্বত্তেও ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানী ভাতা থেকে বঞ্চিত। ২ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আফম মোজাম্মেল হক এমপির সুপারিশেও সম্মানী ভাতার অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলীকে। এ নিয়ে তার আক্ষেপের শেষ নেই।

জানা গেছে, আনছার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের শুরুতে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে সত্রিয় অংশগ্রহণ করেন। একসময় পাক হানাদার কর্তৃক ধৃত হয়ে স্থানীয় রশীদাবাদ চা বাগান ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন। মৃত ভেবে পাকিস্থানী সৈন্যরা তাকে ফেলে দেয়। সেখান থেকে উঠে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর, আখাউড়া ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। পরবর্তীতে গান ফায়ারে আহত হয়ে সি.আর দত্তের সুপারিশে ১২ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত কৈলাশহর আর.জি.এম হসপিটালে তিনি চিকিৎসা নেন।

দেশপ্রেমের সুমহান আদর্শ ও প্রেরণায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে দেশ-মাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে পাক-হানাদার দস্যুবাহিনীর হাতে গুরুতর আহত হওয়ায় ১৯৭২ সালের ৩ ফ্রেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহকুমা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে তাকে ৫০০ টাকার চেক প্রদান করেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক ২০০১ সালে সম্পাদিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মৌলভীবাজার ১ম খন্ডে তার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর (লাল মুক্তিবার্তা) ০৫০৪০৫০৫০৯। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যার ক্রমিক নম্বর ১৯০৯। এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন একাধিক প্রশিক্ষণের সনদপত্র।

বয়সের ভারে ন্যুজ্ব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলী আক্ষেপের সুরে বলেন, মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিটুকু দেখে যাওয়ার বড়ই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হয়তো তা আর হবে না। ২ বছর আগে সম্মানী ভাতার জন্য সকল দলিল প্রমানসহ বড়লেখা ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করি। এ আবেদনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আফম মোজাম্মেল হক এমপি ‘লাল মুক্তিবার্তায় নাম থাকলে ভাতা প্রাপ্য হবেন’ লিখে সুপারিশ করেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এখন মনে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে মরে গেলেই ভাল হতো।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুহেল মাহমুদ জানান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্তি সংক্রান্ত ইব্রাহিম আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি প্রতিবেদন অত্র অফিস থেকে ইতিপুর্বে অগ্রবর্তী করা হয়েছে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

এবি মিডিয়া গ্রুপের সিইও-বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র প্রকাশক রিজু মোহাম্মদ কাল দেশে আসছেন

ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন গোলাপগঞ্জের সন্তান হাফিজুর রহমান

বিয়ানীবাজারে লাউঝারী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র'র উদ্যোগে প্রবাসী সংবর্ধনা ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি ফ্রান্স'র উদ্যোগে আলিম ও হান্নানকে আর্থিক অনুদান প্রদান

সিলেটে আলোচনায় তিন চৌধুরী।। সুবিধাবাদীরা মুহিত ছেড়ে মোমেনের পাশে

অবশেষে বিমানবন্দরে বিদায় বেলা সকলকেই কাছে পেলেন মুহিত!

ঘোষণাঃ