২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে অনন্য উদ্যোগ- সড়কের বাঁকে আয়না, কমছে দুর্ঘটনা

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/01/ayna.jpg?resize=1200%2C630

সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার ব্যস্ততম বেশ কিছু সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ ধরনের আয়না (উত্তল লেন্স) স্থাপন করেছে মিরর বিডি নামে স্থানীয় একটি সংগঠন। সড়কের এসব বাঁকে দুর্ঘটনা কমাতে ব্যতিক্রম এ উদ্যোগ নেন সংগঠনের দেশ-বিদেশের সদস্যরা। সড়কের বাঁকে বাঁকে আয়না স্থাপনের পর প্রায় শতভাগ দুর্ঘটনা কমেছে বলে দাবি করেন ওই সংগঠনের কর্মর্তারা।

জানা গেছে, প্রথমে গত বছরের মে মাসে বিয়ানীবাজার-দাসউরা-গাঙকুল সড়কের বড়বাড়ি-সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে ১৫ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের একটি আয়না স্থাপন করে মিরর বিডি। তারপর সড়কের ওই স্থানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ সাফল্য দেখে সংগঠনের সদস্যরা উপজেলার ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে আয়না স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তারা সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম অভ্যন্তরীণ মহাসড়ক, বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়ক, চন্দুর চৌমোহনী সড়কসহ ১১টি বাঁকে আয়না স্থাপন করেন।

মিরর বিডি সংগঠনের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে আয়না স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্দেশনা স্থাপন করা, দুর্ঘটনা রোধে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারণা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং রাস্তা পারাপারের স্থানগুলোতে জেব্রা ক্রসিং দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সংগঠনে ৫০ জন সদস্য রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ‘রেড ড্রাইভিং স্কুল’-এর প্রশিক্ষক বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা গ্রামের সন্তান সানাউল ইসলাম মিরর বিডি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এ প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে বলেন, উত্তল লেন্স স্থাপনের পর সড়কের উভয় পাশের যানচালক বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে পান। যার কারণে খুব সহজে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে উত্তল লেন্স স্থাপন করা হয়। আমাদের দেশে সে রকম কোনো উদ্যোগ না থাকায় মিরর বিডি নামের সংগঠন করে দুর্ঘটনা রোধ করতে উত্তল লেন্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা এখন পর্যন্ত সফল হয়েছি।

সংগঠনের পরিচালক জয়নুল ইসলাম বলেন, আয়তন ভেদে একেকটি উত্তল লেন্সের দাম কমবেশি হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সানাউল ইসলাম ও সংগঠনের দেশে অবস্থানকারী সদস্যদের আর্থিক অনুদানে এসব আয়না স্থাপন করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি আয়না স্থাপনে ব্যয় হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চাশটিরও বেশি বাঁকে আমরা উত্তল লেন্স স্থাপন করব।

বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র আবদুস শুকুর বলেন, মানবকল্যাণে এ রকম ব্যতিক্রম উদ্যোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা প্রথমে দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করে আয়না স্থাপন করেছে। নিজেরা এ কাজের আর্থিক জোগান দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সড়কের এসব বাঁকে আয়না স্থাপনের পর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। মানবকল্যাণে সকল সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসা উচিত।

শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনছার বলেন, সুস্থ ও মানবিক চিন্তাটা আসল। এখানে কত টাকা ব্যয় হলো সেটি দেখার চেয়ে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হলো সেটাই আগে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মিরর বিডি সংগঠনের ব্যতিক্রম উদ্যোগটি কার্যকর ও সফল। সরকারের উচিত সড়ক ও মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে এ রকম আয়না স্থাপন করা। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ হয়ে জানমাল রক্ষা পাবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

এবি মিডিয়া গ্রুপের সিইও-বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র প্রকাশক রিজু মোহাম্মদ কাল দেশে আসছেন

ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন গোলাপগঞ্জের সন্তান হাফিজুর রহমান

বিয়ানীবাজারে লাউঝারী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র'র উদ্যোগে প্রবাসী সংবর্ধনা ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি ফ্রান্স'র উদ্যোগে আলিম ও হান্নানকে আর্থিক অনুদান প্রদান

সিলেটে আলোচনায় তিন চৌধুরী।। সুবিধাবাদীরা মুহিত ছেড়ে মোমেনের পাশে

অবশেষে বিমানবন্দরে বিদায় বেলা সকলকেই কাছে পেলেন মুহিত!

ঘোষণাঃ