২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিদায়ী মন্ত্রীদের শেষ কর্মদিবস কেমন কাটলো?

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2019/01/bidayi.jpg?resize=1200%2C630

একদিকে বিদায়ী মন্ত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান আর অন্যদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীদের বরণের প্রস্তুতি। এ নিয়ে ব্যস্ত সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যারা নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি তাদের বেশির ভাগই শেষ কর্মদিবস সোমবার (৭ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। যদিও অনেকে এদিন নিজ দফতরে আসেননি। শেষ দিন কর্মস্থলে আসা মন্ত্রীরা নবগঠিত মন্ত্রিসভাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নতুনরা দায়িত্ব পালনে সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ায় বিদায় নিতে হলো দশম সংসদের মন্ত্রীদের। বিদায়বেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। অন্যদিকে সোমবার শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে আসেননি মতিয়া চৌধুরী, মেহের আফরোজ চুমকি, হাসানুল হক ইনু এবং মোফাজ্জল হোসেন মায়া।
শেষ কার্যদিবসে নিজেদের দফতরে বিদায়ী মন্ত্রীরা অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় জানিয়েছেন তাদের।

বিদায় অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই সংসার আসা-যাওয়ার রঙ্গমঞ্চ। নতুনদের জায়গা করে দিতে হবে। নতুনদের নিয়ে যে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে সেটা চমৎকার। আমরা তো এমপি হিসেবে সংসদে থাকবোই। এই সরকারের সফলতা কামনা করি।’

তিনি বলেন, ‘২৮ বছর বয়সে প্রথম প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর পলিটিক্যাল সেক্রেটারি নিযুক্ত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ’৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ সহকারী ছিলাম। এর ২১ বছর পর ’৯৬ সালের ২৩ জুলাই শপথ নিয়ে ২৪ জুলাই সচিবালয়ে এসেছি। দীর্ঘ ৯ বছর আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম।’ তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি বিশ্ববিখ্যাত, জননন্দিত, আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এটি স্বাভাবিক যে নতুনদের জায়গা দিতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই কাজটিই করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি পরিবারের মতো ছিলাম। আমার কাছে মন্ত্রী নয়, এমপিই বড়। আমি পাঁচবার ডব্লিউটিও’র (ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন) কনফারেন্সে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিজয় অর্জিত হবে, যা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা জমজমাটভাবে উদযাপন করবো। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৬তম অর্থনৈতিক দেশ।’

বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার শেষ কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার যে কৃতিত্ব তা আপনাদের সবার। আমি যা নই, তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কৃতিত্বের অধিকারী করেছেন। তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন বলেই আমার এই কৃতিত্ব। তবে এই কৃতিত্ব সবার। আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।’ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় কর্মকর্তাদের অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘ ১০ বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা আধুনিক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি। শিক্ষা পরিবারের সবার সহযোগিতায় আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। এটা সবার অবদান।’

নাহিদ বলেন, ‘নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একজন অভিজ্ঞ বিচক্ষণ মানুষ। শিক্ষা পরিবারের যে অগ্রগতি তা তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনারা সবাই তাকে সহযোগিতা করবেন। গত ১০ বছরের সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন।’

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্বাগত জানাই। নতুনদের জন্য জায়গা করে দিতে হয়, এটাই নিয়ম। নতুন যে মন্ত্রী দায়িত্বে আসছেন, তিনি তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখবেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ও পুরাতনদের নিয়ে সময়োপযোগী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর আমাকে যেভাবে সহায়তা করেছেন, নতুন মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকেও আপনারা সেভাবে সহযোগিতা করবেন উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে।’

বেলা বাড়লে সচিবালয়ে ঢোকেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। ‘বিদায় নয়, মন্ত্রণালয়ে আমার আজ শেষ কার্যদিবস’ বলে মন্তব্য করেন বিদায়ী এই নৌপরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা খুব বাস্তবমুখী। তার এই অগ্রযাত্রায় সবাই সাহসী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।’ শাজাহান খান বলেন, ‘আমার মেয়াদে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এখনও কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।’

বিদায়ী এই মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ একজন রাষ্ট্রপরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। নতুনদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। কর্ম উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’

বিদায়ী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মন্ত্রণালয়ের করিডোরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। রাশেদ খান মেননকে এসময় কিছুটা বিমর্ষ দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘১৪ দলের সমন্বয়কের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে, কেন রাখা হলো না।’ মন্ত্রিসভার আকার শিগগিরই বড় করা হলে ১৪ দলের শরিকদের রাখা হবে নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মেনন বলেন, ‘সেটা তো অপমান করা।’ তিনি সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেসে বিকেলের আগেই মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যান।

অন্যদিকে বিদয়ী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শেষদিনে সচিবালয়ে আসেননি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের বিদায় সম্বর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে মতিয়া চৌধুরী ও মেহের আফরোজ চুমকি কেবল সোমবার নয়, নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকেই অফিসে আসেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জনসংযোগ কর্মকর্তারা। তবে দুজনেই শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে দুই মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তাদের অফিস নতুন মন্ত্রীর জন্য সাজানো হচ্ছে। দুপুরের দিকে গিয়ে দেখা যায়, মতিয়া চৌধুরীর রুমের আসবাব অপসারণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, মন্ত্রী মহোদয় টুঙ্গীপাড়া যদি না যান তাহলে সকালের দিকেই মন্ত্রণালয়ে আসবেন। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকে আর অফিস করেননি, আজকে শেষ দিনেও তিনি আসেননি।’

আর মোয়াজ্জল হোসেন মায়ার রুমের সামনের নেমপ্লেট দুপুরেই বদলে ফেলা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে মন্ত্রণালয়জুড়ে।

সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

এবি মিডিয়া গ্রুপের এমডি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের ফুফু’র ইন্তেকাল ।। বিভিন্ন মহলের শোক

অবশেষে পুলিশের খাঁচায় গোলাপগঞ্জের ডাকাত সর্দার হাত কাটা হাসমত

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সোনালী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত

গোলাপগঞ্জে যুবকের গলাকাটা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

নিউজিল্যান্ডে ভাইয়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত গোলাপগঞ্জের পারভীন

সিলেটে বাউল সংগঠনের বৈশাখী উৎসবের প্রস্তুতি সভা

ঘোষণাঃ