২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সমকালীন ভাবনা- অরিত্রীর আত্মহনন ও শিক্ষকের মেরুদণ্ড

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/12/ahritty.jpg?resize=1200%2C630

অকালে কোনো সন্তানের মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কঠিন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহননও একজন বাবা হিসেবে আমাকে প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। কিন্তু এর জন্য শুধুই কি শিক্ষকরা দায়ী? না কি অন্য কেউও?

একজন শিক্ষক হিসেবে আমিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল জব্ধ করি। অভিভাবক ডেকে মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তা হস্তান্তর করি। কিন্তু অরিত্রীর ঘটনা পরবর্তী যেভাবে শিক্ষকদের ঢালাওভাবে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দোষারোপ করা হচ্ছে, যেভাবে জনমতের চাপে তদন্ত ছাড়া বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তা কি ঠিক ঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে?

অরিত্রীর শিক্ষকেরা হয়তো আরো মানবিক হতে পারতেন। বিদ্যালয়ে চলমান নিয়মের কড়াকড়ি ও রীতি অনুসারে অভিবাবকদের ডেকে অপমানজনক কথা হয়তো বলেছেন। সেজন্য অরিত্রীকে হয়তো মানবিক একটা সুযোগ দিতে পারতেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের চলমান রীতির কারণে তা দেননি। আর সে জন্য কি শিক্ষকরা অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচক হয়ে গেলেন?

প্রশ্ন হল, শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল কেন থাকবে? এই মোবাইলদাতা কে? সেই মোবাইলে নকল, আড্ডা-প্রেমালাপ রোধ করবে কে? পরিণামে ক্লাসে অনুপস্থিতি। তার উপর শাসন করা নিষেধ। শুধু আদর-কদর দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষ করার দায়িত্ব কি একাই শিক্ষকের উপর বর্তায়?

অথচ আজকাল শিক্ষক মূর্তির মতো-
* না দেখার ভান করবেন (নকল, আড্ডা-প্রেমালাপ)।
* ভুল ধরবেন না (ভয় পাবে/অনুপস্থিতি বাড়বে)।
* বকা দিবেন না (মানসিক শাস্তি নিষেধ)।
* বেত মারবেন না (শারিরীক শাস্তি নিষেধ)।
* T.C. দিবেন না (আত্মহত্যা করবে)।
* বাবা-মা’কে কিছু বলা যাবে না (বরখাস্ত হবেন)!

★ তাহলে শিক্ষক কি করবেন? আসলে শিক্ষক চলমান ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর উপর কিছুই করতে পারবেন না। অথচ আমরা ভাল ফলাফল চাই! মানসম্মত শিক্ষা চাই। একটা শিক্ষিত জাতি চাই। একেবারে আপডেটেড ও ডিজিটালাইজড। চাওয়ার কারণ, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু চলমান ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকের মেরুদণ্ড কোথায়?

★ শিক্ষকের যেমন আদর্শ আছে, তেমন ব্যর্থতাও থাকতে পারে। চলমান শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, ষাম্মাষিক, বার্ষিক, প্রি-টেস্ট, টেস্ট পরীক্ষার ছড়াছড়ি। শুধু পরীক্ষা আর পরীক্ষা। এই পরীক্ষার কারণেই এক শ্রেণির অভিভাবক শিক্ষার্থীদের উপর বেশি বেশি চাপ সৃষ্টি করে থাকেন। বিষয়-ওয়ারি প্রাইভেট শিক্ষক রাখেন, কোচিং করান। আর এ সুযোগে কতিপয় শিক্ষকও অতি বাণিজ্যিক হয়ে যান। এভাবে তো চলতে দেয়া যায় না।

অথচ এভাবেই মেরুদণ্ডহীন জাতি গঠন করতে চলেছি আমরা। এই শিক্ষার ভবিষ্যৎ ফল আসলে কি দাঁড়াবে? তা জাতি উপভোগ করতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এভাবে চলতে থাকলে————
♦ পুত্রের হাতে পিতা অপমানিত হবেন।
♦ কন্যার কাছে মা জিম্মি হবেন।
♦ ছাত্র/ছাত্রীর হাতে শিক্ষক অপমানিত হবেন।
♦ সমাজে বড়রা সম্মান পাবে না।
♦ ছোটরা স্নেহ পাবে না।
♦ ধর্মীয় অনুভুতি থাকবে না।
♦ কারো মধ্যে দেশপ্রেম থাকবে না।
♦ দেশে আদর্শ নেতৃত্ব তৈরি হবে না।

★ এই চলমান শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড তৈরি করবে না। এই শিক্ষায় জাতি সোজা হতে পারবে না। বিপদ তো সকলের সন্নিকটে। তাই দ্রুত লাগাম টানা দরকার।অরিত্রীর ঘটনার জন্য তো সমগ্র শিক্ষক সমাজকে দায়ি করা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। কেননা এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

যে কোনও হঠকারী সিদ্ধান্তই এ ধরণের বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি করে। এখানে অমিত সম্ভাবনাময় এক জীবনের অকাল পরিসমাপ্তি হলো, ক্ষতিগ্রস্থ হলো একটি পরিবার। আবার তেমনই এর ফলশ্রুতিতে মহল বিশেষ কর্তৃক দেশের মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষক সমাজের প্রতি একটা বিরুপ মনোভাব গড়ে তোলার অপচেষ্টার যাত্রা। কোন অবস্থাতেই শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এ ধরণের অদক্ষ, অযোগ্য ও হঠকারী সিদ্ধান্তের দ্বারা শিক্ষার সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট করা সমীচীন হবেনা এই প্রত্যাশাই করি।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট। সভাপতি- বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

এবি মিডিয়া গ্রুপের সিইও-বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র প্রকাশক রিজু মোহাম্মদ কাল দেশে আসছেন

ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন গোলাপগঞ্জের সন্তান হাফিজুর রহমান

বিয়ানীবাজারে লাউঝারী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র'র উদ্যোগে প্রবাসী সংবর্ধনা ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি ফ্রান্স'র উদ্যোগে আলিম ও হান্নানকে আর্থিক অনুদান প্রদান

সিলেটে আলোচনায় তিন চৌধুরী।। সুবিধাবাদীরা মুহিত ছেড়ে মোমেনের পাশে

অবশেষে বিমানবন্দরে বিদায় বেলা সকলকেই কাছে পেলেন মুহিত!

ঘোষণাঃ