২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আমি কেন নৌকায় ভোট দেব

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/12/fojle-rabbi-sebul.jpg?resize=1200%2C630

পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই পক্ষের এক পক্ষ সরকার গঠন করে এবং আরেক পক্ষ বিরোধী দলের আসনে বসে। সরকারি দল রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহনের মাধ্যমে জনগণের আরো কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে প্রশাসন এবং জনগণের কাছে হয়তো একটু বাড়তি গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে, যা বিরোধী দলের ক্ষেত্রে অনেকাংশে থাকে না! পার্থক্য বলতে এইটুকু! এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে তথা রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালার কোন তারতম্য হয় না বললেই চলে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পুর্ন ভিন্ন! এখানে একদিকে পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসী জঙ্গি গোষ্ঠির আশ্রয়দাতা বিএনপি; অপরদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শত অভিযোগ থাকা স্বত্তেও জঙ্গিবাদ বিরোধী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিকল্প আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশে নেই ।

যারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অগ্রসরমান অসাম্প্রদায়িক মাতৃভূমি দেখতে চায়; তাদের সামনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগই যে শেষ ভরসা; তা নূন্যতম জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরও না বুঝার কথা নয়।

কেন আমি নৌকায় ভোট দেব? এই প্রশ্নের উত্তর খোজতে হলে আমাদেরকে আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জানা দরকার! বিশেষ করে এই দুই পক্ষের রাজনৈতিক দর্শন এবং তাদের শাসনামলে যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সেইসব ঘটনা প্রবাহে একটু আলোকপাত করা দরকার।

এখন আসা যাক বিএনপি-জামাইয়াতের শাসনামলে আমরা যা দেখেছি, তার একেবারে সংক্ষিপ্ত তালিকা এরকম- মৌলবাদ এবং জঙ্গি পোষন, বাংলা ভাই গংদের উত্তান, হাওয়া ভবন এবং খোয়াবনগর নামক কুকর্মের সুতিকাগার দুটি ভবনের বর্গি শাসন, একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলাসহ সারাদেশে একসাথে ভয়াবহ বোমা হামলা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ পাহারায় দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান, বিদ্যুবিহীন মানুষের দূর্বিসহ যন্ত্রনা আর খাম্বা গংদের হাজার কোটি টাকা লুটপাট, সারের দাবীতে আন্দোলনরত কৃষকের লাশ হয়ে ঘরে ফেরা, দিনাজপুরের ইয়াসমিনকে ধর্ষন ও হত্যা পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আওয়মী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের বিজয় মিছিলে ব্রাশ ফায়ার, দুর্নীতি বার বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বর্হিবিশ্বে দেশের ইমেজের বারোটা বাজানো, রাজাকার কমান্ডারের গাড়িতে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা, যুদ্ধাপরাধীদের পুণর্বাসনসহ প্রশাসনে দুর্নীতির মহোৎসব, উদিচি’র অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, আহসান উল্লাহ মাষ্টার হত্যা, শাহ এসএএম কিবরিয়া হত্যাসহ ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী তান্ডব, সংখ্যালঘু নির্যাতন, কত শত ‘পূর্ণিমাকে’ শুধুমাত্র নৌকার সমর্থক হওয়ার অপরাধে ৭১ এর মতো চরম মুল্য দিতে হয়েছিল, তার কোন লেখা জোকা নেই । এমনকি ক্ষমতার বাহিরে থেকেও হেফাজতিদের জঙ্গি উত্তানে নেপথ্যের কুশিলব হয়ে উসকানি দান এবং সর্বশেষ পেট্রল বোমার তান্ডব; যা বিশ্ব বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। যেন বাংলাদেশের সব মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে!

অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতার এসেই পার্বত্য জেলাসমুহে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারীদের অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে শাস্তি চুক্তি সম্পাদন করে, যা ছিল দেশের অখন্ডতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। গঙ্গার পানি চুক্তির ফলে দেশের এক বৃহৎ অঞ্চল মরুকরণ থেকে রক্ষা পায়। ছিটমহল সমস্যার সমাধানে নিজ ভূমে পরবাসি মানুষের ৭০ বছরের আহাজরির অবসান হয়েছে। যারা দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও এর বীর সেনাদের নিয়ে প্রকাশ্যে হাসি-ঠাট্টা করতো সেই সব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বঙ্গবন্ধু হাত্যকান্ডের স্বঘোষিত খুনিদের বিচারের আওতায় এনে শেখ হাসিনা সরকার জাতিকে যে ইতিহাসের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে ; কৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে শুধুমাত্র এই দুই কারণে নৌকায় ভোট দেয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পডে বলে বিবেকবান মানুষজন মনে করেন। আর সর্বনাশা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নিরন্তর সংগ্রাম বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে!পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষকদের অমানবিক বেতন কাঠামোর অবসান, বছরের প্রথম দিনে শিশু-কিশোরদের হাতে নতুন বই, উপবৃত্তি, বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অসংখ্য মানবিক রাষ্ট্রীয় সহায়তা! সারাবিশ্ব অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন করে- সীমিত সম্পদের এই দেশে এতসব কিভাবে সম্ভব? আর বাংলাদেশের মানুষ বলে ‘উত্তর একটাই – এর নাম শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় ঘটনা হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট। রাতের আধারে কতিপয় বিপথগামী নরপশু স্বপরিবারে হত্যা করেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঐ হত্যাকান্ড কি শুধুই কিছু বিপথগামী মানুষের ক্ষমতার স্বাদ নেয়ার জঘন্য চেষ্টা? না তার চেয়েও বেশি কিছু! অবশ্যই না! বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, শুধুমাত্র একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টা নয়। ওটা পরাজিত পাকি জারজদের নিষ্ঠুর আক্রূশের ‘প্রথম মিশন’। উদ্দেশ্য ছিল পরিবার-পরিজন জ্ঞাতি-গোষ্টিসহ ‘পাকিস্তানের চরম শত্রু’ শেখ মুজিবু রহমানকে খতম করে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে পূনরায় পূর্ব পাকিস্তান বানানো! বলতে দিধা নেই এক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল হয়েছিল। ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের দিকে থাকালেই তার প্রমাণ পেতে অসুবিধা হবে না। বাংলাদেশে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে, তা মুক্তমনা মানুষের ধারনায় ছিল না। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটলো; ২১শে আগষ্ট ২০০৪ – দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠনের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হলো। সেই পুরোনো টার্গেট- ৭৫ এ ভাগ্যগুনে বেচে যাওয়া মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম দ্বিতীয় কোন রাজনৈতিক নেতা আছেন কি না জানা নেই, যাকে হত্যার জন্য ১৯বার আক্রমন করা হয়েছে! আর কত শতবার যে গোপনে হত্যা পরিকল্পনা হয়েছে তার কোন হিসেব নেই !

একাত্তরে পাকবাহিনী এবং তাদের দুসর রাজাকার, আলবদর, আল সামস মিলে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে নস্যাৎ করার জন্য যে গণহত্যা, ধর্ষন এবং ধংসযজ্ঞ চালিয়েছে; বিশ্বের আর কোথায় এমন নিষ্ঠুরতার নজির নেই। তারপরও যখন বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিল তখন পরাজিত শক্তি তাদের কৌশল বদলে পাকিস্তান ভাঙ্গার মূল নায়ক শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দল আওয়ামী লীগকে টার্গেট বানালো। মুস্তাক, ফারুক, রশীদ, ডালিমদের হাত ঘুরে এই হত্যা মিশন ‘রিলে রেসের কাঠি‘ এখন খালেদা পুত্র তারেক জিয়ার হাতে! যার প্রমাণ দেশের মানুষ পেয়েছে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা এবং সর্বশেষ পেট্রল বোমার তান্ডবের সময়। আর বর্তমানে ঐক্যফ্রন্ট নামক যে জঙ্গি আস্তানা গঠন করা হয়েছে তার মূল নায়ক কিন্তু ঐ তারেক জিয়া। যারা দেশকে ক্রমাগত জঙ্গিবাদের অন্ধকার গুহার দিকে টানছে। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবনের ঝুকি নিয়েও দেশকে আলোর পথে নিয়ে আসার নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ।

সিদ্বান্ত এখন আমাদের হাতে, আমরা কোন পক্ষে যাব- আলোর পথে না জঙ্গিবাদের অন্ধকার গুহার দিকে? আমি কিন্তু আলোর পথে ,আমি নৌকার পক্ষে।

লেখক – সভাপতি, শহীদ নাহিদ ফাউন্ডেশন ইউএসএ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

শামীমের ফেইসবুক স্ট্যাটাস নির্বাচনের নামে প্রহসনের রাজনীতি বন্ধ করুন

সিলেটে বেড়াতে এসে ট্রাক চাপায় সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-ছেলে নিহত

আতাউর রহমান খান'র বাড়িতে আবুল কাশেম পল্লব!

মুড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রব এর ইন্তেকাল।। বিভিন্ন মহলের শোক

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন- জামানত বাজেয়াপ্ত হলো যাদের

ফলাফল ঘোষণা শেষে দক্ষিণ বিয়ানীবাজারে হাজারো মানুষের বিজয় উল্লাস

ঘোষণাঃ