১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটজুড়ে ২৫ দিনে ৫ ‘গুপ্তহত্যা’।। জনমনে আতঙ্ক

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/11/gup-hotta.jpg?resize=1200%2C630

সিলেটে ‘গুপ্তহত্যা’ চলছে। খুন করে ফেলে দেয়া হচ্ছে নদীতে। কিংবা হাত-বা বেঁধে পুকুরেও ফেলে দেয়া হচ্ছে। কারো দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে খুন করা হচ্ছে। আর এই গুপ্তহত্যা নিয়ে রহস্যা দানা বাঁধছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২৫ দিনে সিলেটে এ রকম পাঁচটি গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে পুলিশ।

বাকিগুলো রয়েছে অজানা। তবে পুলিশ বলছে, লাশ উদ্ধারের পরপরই খুনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে কানাইঘাটের মুহিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এই গুপ্তহত্যার মধ্যে চারটি হচ্ছে সিলেটের গোলাপগঞ্জে ও অপরটি হচ্ছে বিশ্বনাথে। লোমহর্ষক এসব হত্যার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধও। শনিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ ভাদেশ্বর থেকে আমজদ আলী নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভাদেশ্বর ইউনিয়নে মাইজভাগ গ্রামের সাহেদ আহমদ ও সুমন আহমদের পিতা। সকাল ১০টায় নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে আমজদ আলীর লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে ওসি পুলিশ নিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ভাদেশ্বর ইউপির মাইজভাগ পুল সংলগ্ন পুকুরে দু’পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। লাশ দেখতে শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে হত্যার পর আমজদ আলীর লাশ গুম করতে পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এর আগে গত ৮ই অক্টোবর বাঘা ইউনিয়নের বরমপুরে কানাইঘাটের মাওলানা মুহিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৮শে অক্টোবর চৌঘরীস্থ সুরমা নদী থেকে আরেকটি ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। দুদিন পর ৩০শে অক্টোবর বাঘা ইউনিয়নের তুরুগাঁও গ্রামের সুরমা নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় চুনু মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুটি লাশ অন্য উপজেলা থেকে সুরমা নদী দিয়ে ভেসে এসেছে। আর বাকি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, কানাইঘাটের মাওলানা মুহিবুর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নিহতের ভায়রা রিয়াজ উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে রিয়াজ উদ্দিন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পিয়ারা বেগম ছালেহা, জামাল উদ্দিন ও তাজ উদ্দিন জড়িত বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের রইছ উদ্দিনের স্ত্রী ও নিহতের শাশুড়ী পিয়ারা বেগম ছালেহা, নিহতের ভাইরা ভাই ধলখিরাই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন, নিজ চাউরা দক্ষিণ গ্রামের মৃত এবাদুর রহমানের পুত্র জামাল উদ্দিন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শংকর সাংবাদিকদের জানান, মুহিবুর রহমান হত্যার ঘটনায় রিয়াজ উদ্দিন গত মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। জবানবন্দির বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কয়েক মাস আগে মারা যান মুহিবুর রহমানের স্ত্রী। তার সন্তান রয়েছে। আসামি সালেহা বেগম তার মানসিক রোগে আক্রান্ত অপর মেয়েকে মুহিবুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে মুহিবুর রহমান অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে মুহিবুর রহমান বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার বিষয়টি তার শাশুড়ী সালেহা বেগম ভালোভাবে নেননি। এজন্য আসামি রিয়াজ উদ্দিনসহ অন্যরা মিলে পরিকল্পিতভাবে মুহিবুর রহমানকে হত্যা করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, রিয়াজ উদ্দিনের দেয়া তথ্য মতে গত ৩০শে অক্টোবর শাহপরান থানা পুলিশের সহায়তায় মেজরটিলা পুরাতন র‌্যাব অফিসের সামনে থেকে জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৮ই অক্টোবর ভোরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাঘা ইউপির রুস্তমপুর এলাকার একটি ব্রিজের নিচ থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ মুহিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। তার কোনো পরিচয় না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন রাতেই বেওয়ারিশ হিসেবে সিলেট নগরীর মানিকপীরের টিলায় দাফন করা হয়। খুন হওয়া মুহিবুর রহমান কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের গোরকপুর গ্রামের ফয়জুর রহমানের ছেলে।

সিলেটের বিশ্বনাথেও শনিবার গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সুলতান মিয়া নামের এক ইটভাটার শ্রমিকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রামপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে থেকে লাশটি পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানায়, সকালে অজ্ঞাত ওই যুবকের মস্তকবিহীন লাশ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নিহত সুলতান মিয়া সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দুর্বাকান্দা পাতাইরা গ্রামের আলকাছ আলী ও নূরজাহান বিবির পুত্র। সে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আজিজনগরস্থ এআর ব্রিকস ফিল্ডের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল।

বিশ্বনাথ থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা সাংবাদিকদের বলেন, মস্তকবিহীন অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। কী কারণে তাকে খুন করা হয়েছে এর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

সূত্র- মানবজমিন

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান চুনু'র ইন্তেকাল।। শিক্ষামন্ত্রী'র শোক

২০১৮ সালের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দিল ঘুঙ্গাদিয়া একাডেমি

গোলাপগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হাসান'র অবস্থা আশংকাজনক

বিয়ানীবাজারে ফাঁদ পেতে মেছোবাঘ আটক

সিলেট-০৬ আসনে জাপা'র দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে আতাউর রহমান

গোলাপগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঘোষণাঃ