১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় এসএসসি’র অতিরিক্ত ফি আদায়- কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/11/654.jpg?resize=1200%2C630

বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি ও কোচিং ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কৌশলে জনপ্রতি ১২lশ’ টাকা করে আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।  একই সাথে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারীত এসএসসি ফি থেকে ১২/১৩শত টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত ফি ও কোচি বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বলেন, সেশন ফি, বেতনসহ যাতায়াত ভাড়া নেয়ায় ফি একটু বেশি দেখাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য তারা উদ্যোগ নিয়ে কিছু টাকা তোলেছে। তিনি বলেন, তাঁর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১৯৫জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

জানা যায়, এসএসসি ফি’সহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মানবিক বিভাগে ২৭শ’ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে হচ্ছে ২৮শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। কোচিংয়ে ১২শত টাকা এবং বিদ্যালয়ের বেতন (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ও সেশন ফি মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা জন প্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকার বেশি করে দিতে হচ্ছে।

এদিকে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৫৬৫ টাকা ও মানবিক বিভাগে ১৪৪৫ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে। বোর্ড নির্ধারীত ফিসহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা।

সচেতন অভিভাবকদের মতে ৩ মাসে কোচিং বাবত ২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা আবার ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত বেতন ওসেশন ফি আদায় অমানবিক- যা শিক্ষকতা পেশায় নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী অভিভাবক সাইম আহমদ বলেন, নির্বাচনী পরিক্ষার পরপরই কোচিং ফি বাবত ১২শ টাকা দিয়েছি। এখন আজ (মঙ্গলবার) আবার ২৭০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন বাবত দিতে হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের বেতন ও আদায় করা হয়েছে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা পরিশোধ করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতো টাকা আদায় করা হলেও কোন আদায় রশিদ ও বিদ্যালয়ে থেকে দেওয়া হয়নি।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন কয়েকজন অসাধু শিক্ষক। সরকার যেখানে শিক্ষার উন্নয়ন করতে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছে সেখানে এই বিদ্যালয়ের কিছু অসাধু শিক্ষক বিভিন্ন পন্থায় টাকা আদায় করছে। শিক্ষামন্ত্রী এলাকায় একটি বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা সত্যিই মেনে নেওয়ার মত না। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, বেতন ও সেশন ফি নিচ্ছি। এছাড়া এসএসসি ফি’র সাথে সব কিছু যুক্ত করলে ২৭/২৮শত টাকা হচ্ছে। এর বাইরে কোন ফি আমরা আদায় করছি না। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীর তাদের প্রয়োজনে তারা টাকা উত্তোলন করছে অতিরিক্ত ক্লাস করানোর জন্য। তারা চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা করে এসএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য ফিস নির্ধারীত করা হয়েছে।

এবিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষেয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়স্ত্রক কবির আহমদ বলেন, কোচিং ফি বা অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি দেখছি। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেতন নেয়ার সুযোগ থাকলেও সেশন ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এটা তারা কেন করছে আমি দেখতেছি। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা আগে এ রকম অভিযোগ প্রতি বছর আমরা পাই। দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও সহণীয় হতে হবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

জকিগঞ্জের সন্তান ডা. মোর্শেদ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য

কোয়াব বিয়ানীবাজার ক্রিকেট একাডেমীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুক্রবার

সিলেট-০৬ আসন।। কে পাচ্ছেন বিএনপি'র ধানের শীষ

পিএসএলে খেলবেন সিলেটের জাকির!

বিয়ানীবাজারে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আগামী রবিবার

ফিরে দেখা- সংসদ নির্বাচন ২০০৮।। সিলেটের ৬টি আসনের নির্বাচনী অবস্থা

ঘোষণাঃ