১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফিরে দেখা- সংসদ নির্বাচন ২০০৮।। সিলেটের ৬টি আসনের নির্বাচনী অবস্থা

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/11/2008.jpg?resize=1200%2C630

২০০১ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট ক্ষমতা আসে। ৮ম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয় ২৭ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে এবং সে অনুযায়ী ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি ছিল ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শেষ তারিখ।

কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সে সময় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সংগঠনের কোন পরিস্থিতি ছিল না। রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দল, আওয়ামী লীগের অসহযোগ আন্দোলন এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির অসহনশীলতার কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ১২ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ।

ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করার কথা থাকলেও নানা রাজনৈতিক কারণে তা না করে এ সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করা হয়। এ পরিস্থিতির মধ্যে ২০০৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুস। একই বছরের ৭ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান প্রক্রিয়ার আওতায় দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করে সারাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকার আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে সকল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। নতুনভাবে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসময় জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ৩০০টি সংসদীয় আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করা হয় এবং সে বছরের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে এবং দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৫৬৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সংসদ গঠন করে এবং বিএনপি দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে অংশগ্রহণ করে।

৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৬৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ২৩০ টি আসনে (মোট ভোটের ৪৮.০৪ শতাংশ ভোট) জয়লাভ করে। বিএনপি ২৬০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ৩০ টি আসনে (মোট ৩২.৫০ শতাংশ ভোট) বিজয়ী হয়।

সিলেট জেলার নির্বাচনী অবস্থা

২০০৮ এর নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনে ১৪,২৯,৯১৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে সবকটি আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক এবং বিএনপি ও তাদের শরিকরা সিলেট জেলার কোন আসনে জয়লাভ করেনি।

সিলেট ১ (সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং সদর উপজেলা): এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১,৭৮,৬৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম সাইফুর রহমান ১,৪০,৩৬৭ ভোট পান।

সিলেট ২ (বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলা): এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী ১,০৯,৩৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম ইলিয়াস আলী ১,০৬,০৪০ ভোট পান।

সিলেট ৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা): সিলেট ৩ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ৯৭,৫৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাফি উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ৫৪,৯৫৫ ভোট পান।

সিলেট ৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুর উপজেলা): এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরান আহমদ ১,৪৪,১৯৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম ৯৮,৫৪৫ ভোট পান।

সিলেট ৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা): সিলেট ৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার ১,০৯,৬৯০ ভোট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদউদ্দিন চৌধুরী ৭৮,০৬১ ভোট পান।

সিলেট ৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা): এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ ১,৩৮,৩৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পান ৫১,৭৬৪ ভোট।

সূত্র- সিলেটটুডে২৪

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারণায় সুইজারল্যান্ড আ.লীগ

বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র বার্তা সম্পাদক-যুগান্তর প্রতিনিধি অসুস্থ স্বপনের শয্যা পাশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

গোলাপগঞ্জে নৌকার সমর্থনে শিক্ষার্থী সংলাপ

'আমার নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ'- সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী

সিলেটে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে ম্যাচ।। মঙ্গলবার রাত থেকে মিলবে টিকেট

বিয়ানীবাজার ক্রিকেট লীগ- ঈগলস ক্লাব খাসাড়ীপাড়াকে হারালো ঘুঙ্গাদিয়া স্পোর্টিং ক্লাব

ঘোষণাঃ