১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড় টিলা

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/11/truck.jpg?resize=1200%2C630

গোলাপগঞ্জে চলছে পাহাড়, টিলা কাটার মহোৎসব। প্রতিদিন উপজেলার কোনো না কোনো স্থানে রাতের আঁধারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে মাটি ব্যবসায়ী চক্র। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব পদক্ষেপ না থাকায় বেপরোয়া এই চক্র। এদিকে যথেচ্ছ পাহাড়-টিলা কাটায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, হারিয়ে যাচ্ছে গোলাপগঞ্জের সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এসব পাহাড়-টিলা কেটে চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এ চক্রের কেউ কেউ আবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাটের দোহাই দিয়েও পাহাড় কাটছে।

উপজেলার বাঘা ইউপির সোনাপুর অধীরের দোকান সংলগ্ন গণ্ডামারার ছত্তার মিয়ার টিলা ও আলাউদ্দিনের টিলা, ধারাবহর শীলঘাট এলাকার তাজুল ইসলাম, বাইপাস রোডে কয়েছ মহাজনের টিলা, লক্ষ্মীপাশা ইউপির দক্ষিণভাগ তালিপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার টিলা, লক্ষ্মণাবন্দ ইউপির নিশ্চিন্ত খর্দ্দাপাড়া আবদুল মন্নান মাস্টারের টিলা ও দক্ষিণ ঘোষগাঁও এলাকার একটি টিলায় ভূমিখেকো চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে নিলেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ। লক্ষ্মীপাশা ইউপির তালিপাড়া গ্রামের মাসুক মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ছয়েফসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তারেক ও তার সহযোগী মন্নান মিয়া জোরপূর্বক টিলা কেটে গ্রামের রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর, ট্রলিযোগে দীর্ঘদিন ধরে মাটি পরিবহন করে রাস্তা ধ্বংস করছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রামবাসী টিলা কাটার কাজে ব্যবহূত এক্সক্যাভেটর আটকে রেখেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সোনাপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ‘এরা রাতের শেষ প্রহরে যখন রাস্তায় কোনো লোকজন থাকে না তখন ট্রলি, ট্রাক দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ করে। পুলিশই তাদের টিলা কাটতে সহায়তা করে।

শীলঘাট এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কয়েছ মহাজন ও জামাল মিয়ার টিলায় রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর লাগিয়ে মাটি কাটছে শ্রমিকরা। তা ছাড়া আমজাদ আলীর বিরুদ্ধে টিলা কাটার অভিযোগে একাধিক মামলাও রয়েছে।

আমজাদ আলী বলেন, ‘২০০৮ সালে টিলা কাটার দায়ে আমার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা হওয়ায় এ কাজ থেকে বিরত রয়েছি। আমার টিলার পাশে কয়েছ মহাজনের টিলা রয়েছে। কয়েছ মিয়া পুলিশের জ্ঞাতসারেই রায়গড় পুরাণ বাজার মাদ্রাসার মাঠ ভরাটে ওই টিলা কাটছেন।’

তবে তার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন কয়েছ মিয়া। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জী বলেন, ‘টিলা কাটা রোধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত। প্রশাসন যখনই যেখানে টিলা কাটার সংবাদ পাচ্ছে, অভিযান পরিচালনা করছে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।’

ইউএনও মামুনুর রহমান বলেন, টিলা কাটার কাজে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

জকিগঞ্জের সন্তান ডা. মোর্শেদ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য

কোয়াব বিয়ানীবাজার ক্রিকেট একাডেমীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুক্রবার

সিলেট-০৬ আসন।। কে পাচ্ছেন বিএনপি'র ধানের শীষ

পিএসএলে খেলবেন সিলেটের জাকির!

বিয়ানীবাজারে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আগামী রবিবার

ফিরে দেখা- সংসদ নির্বাচন ২০০৮।। সিলেটের ৬টি আসনের নির্বাচনী অবস্থা

ঘোষণাঃ