১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অতিথি ও দেশীয় পাখি

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/11/pakhi.jpg?resize=1200%2C630

শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই একশ্রেণির পেশাদার অসাধু পাখি বিক্রেতা বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি। এদের মধ্যে পেশাদার বিক্রেতার পাশাপাশি রয়েছে মৌসুমি পাখি বিক্রেতারাও। সব ধরনের পাখি শিকার ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রশাসনের নির্বিকারের সুযোগে অসাধু পাখি বিক্রেতারা বেপরোয়াভাবে পাখি বিক্রি করছে। এতে পরিবেশ যেমন ভারসাম্য হারাচ্ছে তেমনী পাখি বিক্রেতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত কয়েকদিন থেকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের মেইন রোড, কলেজ রোড, মোরগ গলি এলাকায় পাখি বিক্রি করছে জকিগঞ্জের শাহগলী এলাকার মুমিন মিয়াসহ কয়েকজন যুবক। একই সময়ে আব্দুল জলিলসহ কয়েকজনকে পাখি বিক্রি করতে দেখা যায়। আব্দুল জলিলের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের শারপার এলাকায়।

পাখি বিক্রেতা মোমিন মিয়া জানান, সে কানাইঘাট উপজেলা থেকে শারস প্রজাতির ৫ হালি পাখি ক্রয় করে বিয়ানীবাজারে বিক্রি করছে। সে দীর্ঘদিন থেকে কয়েকজন যুবককে নিয়ে পৌরশহর ও আশপাশ এলাকায় মোরগ বিক্রি করতো। পাখির ক্রেতা ও লাভ বেশি হওয়া গত কয়েকদিন থেকে পাখি বিক্রি করছে। এক হালি শারস পাখির দাম ৬ হাজার চাইলে ক্রেতাদের সাথে দর কষাকষি করে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি করছে। পাখি বিক্রি ও শিকার অপরাধ কি না জানতে চাইলে মোমিন বলেন, আমরা বিক্রি করছি, কিন্তু কেউতো বাধা দেয়নি। সবাই দাম জিজ্ঞস করে। স্যাররাও মাঝে মধ্যে কিনে নেয়। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্যাররা টাই পরা থাকে, দেখলেই চিনতে পারি।

অপর পাখি বিক্রেতা আব্দুল জলিল মুড়িয়া হাওরে ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের কথা জানান। সারাদিন হাওরে পাখি শিকার করে বিকালের দিকে বাজারে পাখি নিয়ে আসেন। জলিল বলেন, বড় আকারের একেকটি বক ৮শত টাকা এবং ছোট ও মাঝারি আকারের বক ৬শত ও ৪শত টাকা বিক্রি করেন। তিনিসহ আরও দুই যুবক পাখি বিক্রির সাথে রয়েছে। জলিল বলেন, আইন আছে কিনা আমার জানাে নেই। আগে যেমন পাখি শিকার করি, এখনো করছি। নিজে খাই এবং বিক্রিও করি।

পৌরশহর ছাড়াও শেওলা সেতুর টোল এলাকা, বৈরাগীবাজার, দাসউরা বাজার ও কোণাগ্রামের অফিসের বাজারে পাখি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। শেওলা সেতুর টোল এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে কবির ও জোবেল নামের দু্ই যুবক পাখি বিক্রির সাথে জড়িত। তারা দেশীয় প্রজাতির শালিক, ঘুঘু, কানা বক ও সাদা বকের পাশাপাশি অতিথি পাখি বিক্রি করছে।

বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলেই উপজেলার মুড়িয়া হাওরসহ ছোটবড় হাওর ও বিলে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের অতিথি পাখির ঢল নামে। আশ্বিন মাসের শেষের দিকে হাওর ও বিলের পানি শুকাতে শুরু করে। এ সময় পুঁটিসহ ছোট ছোট মাছ খাওয়ার লোভে হাওর কিংবা বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে নামে অতিথি পাখি। ওই সময় একশ্রেণির শিকারি বিষটোপ কিংবা নানা ধরনের ফাঁদ পেতে শিকার করছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় পাখি। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকেপিাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, শীত আসলেই প্রায়ই পাখি শিকার ও বিক্রির অভিযোগ পাই। এ বিষয়ে আমরা ভ্রাম্যবান আদালত পরিচালনা করবো। আজকের মধ্যে পাখি বিক্রির সম্ভাব্য স্থান ও সময় জেনে অভিযান পরিচালনা করবো। তিনি সকলের সহেযোগিতা কামনা করে বলেন, স্থানীয় মানুষের সচেতনা বৃদ্ধির করতে পারলে পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়েছে ৪ মন ওজনের বাঘা আইড়

আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান চুনু'র ইন্তেকাল।। শিক্ষামন্ত্রী'র শোক

২০১৮ সালের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দিল ঘুঙ্গাদিয়া একাডেমি

গোলাপগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হাসান'র অবস্থা আশংকাজনক

বিয়ানীবাজারে ফাঁদ পেতে মেছোবাঘ আটক

সিলেট-০৬ আসনে জাপা'র দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে আতাউর রহমান

ঘোষণাঃ