১৮ই জুন, ২০১৯ ইং | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে শাশুড়ির পরিকল্পনায় খুন হন জামাতা, ২ হত্যাকারী আটক

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/10/bbn-33-1.jpg?resize=1200%2C630

কানাইঘাটের মুহিবুর রহমান হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আটক হওয়া দুই ব্যক্তি। তাদের দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুহিবের শাশুড়ি সালেহা বেগমকে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কানাইঘাটের ধলখিরাই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ রিয়াজ উদ্দিন (২৮) ও বিষ্ণুপুর নিজ চাউরা দক্ষিণ গ্রামের মৃত এবাদুর রহমানের পুত্র জামাল উদ্দিন (২৬)।

হত্যাকান্ডে জড়িত দুই আসামীর আসামীর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে হত্যার পরিকল্পনাকারী মুহিবুরের শাশুড়ী সালেহা বেগমের নাম। হত্যার পেছনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে আটক হওয়া দুইজন।

জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করে, গত নয় মাস পূর্বে মুহিবুরের স্ত্রী শাবানা বেগম মারা যাওয়ায় তিন সন্তানের লালনপালনের জন্য সালেহা বেগমকে নিজের গোলাপগঞ্জের রায়গড়স্থ নিজস্ব বাসায় এনে রাখেন এবং ভরণপোষন দিতে থাকেন। এদিকে শাশুড়ি সালেহা বেগম তার মানসিক প্রতিবন্ধী একটি মেয়েকে মুহিবুর রহমানের সাথে বিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন। শাশুড়ির প্রস্তাবে তে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুহিবুর রহমান বিদেশ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। গত ৩ অক্টোবর রাতে সালেহা বেগম মোবাইল ফোনে মুহিবুর রহমানের সন্তানরা অসুস্থ জানিয়ে সিলেটে একটি হাসপাতালে দেখা করার জন্য বলেন। মুহিবুর রহমান শ্বাশুড়ির কথা অনুযায়ী সন্তানদের চিকিৎসা করানোর জন্য ৪ অক্টোবর তারিখ সকালে বাড়ী থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। সালেহা বেগম আসামী রিয়াজ উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ তাদের অন্য পলাতক সহযোগীদের পরস্পর যোগসাজসে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুহিবুর রহমানকে হত্যা করে এবং তার লাশ গুম করার উদ্দেশে বাঘার বোরহান উদ্দিন পাকা রাস্তার পার্শ্বে নোয়াখাল ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে খালের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।

গত ০৮ অক্টোবর ঐ স্থানে অজ্ঞাত অবস্থায় মুহিবুরের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটিত না হওয়ায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এবং তার কোন ওয়ারিশ না পাওয়ায় লাশটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে মানিকপীর টিলায় দাফন করা হয়। পরবর্তীতে কানাইঘাট থানায় লাশের পরিচয় সনাক্ত হয়।

মুহিবুর রহমানকে অনেক খোঁজাখুজির পর সন্ধান না পেয়ে মুহিবুর রহমানের আপন ছোট ভাই শাহাব উদ্দিন ২৪ অক্টোবর কানাইঘাট থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়রি করতে গেলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ছবি দেখালে তারা লাশটি মুহিবুরের বলে সনাক্ত করেন।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী রিয়াজ উদ্দিনকে সিলেট নগরীর যতরপুর গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর রিয়াজ উদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুন করার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সহযোগী হিসেবে জামাল উদ্দিন, মুহিবুর রহমানের শাশুড়ি সালেহা বেগম, তাজ উদ্দিনদের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সালেহা বেগম (৬০) কে আটক করে পুলিশ। ৩০ অক্টোবর রাতে অপর আসামী জামাল উদ্দিনকে মেজরটিলা পুরাতন র‌্যাব অফিসের সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে এবং তার সহযোগী আসামীর বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। অপর আসামী তাজ উদ্দিনকে এখনও পলাতক রয়েছে।

মামলার মুল রহস্য উদঘাটনের লক্ষে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সার্কেল-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাশেদুল হক চৌধুরীর নির্দেশনায়, অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলির তত্বাবধানে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই শংকর চন্দ্র দেব, এসআই তপন কান্তি দাশ, এসআই মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ও এএসআই মোঃ কামাল হোসেন কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, সিলেটের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

সূত্র: সিলেটভিউ

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

বড়লেখায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

বিয়ানীবাজারে ইভটিজিংয়ের অপরাধে বখাটের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেন এবি মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক আজিমুর রহমান বুরহান

বিয়ানীবাজারে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্বজন সমাবেশ এর ‘স্বজন আড্ডা’ অনুষ্ঠিত

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনায় বোর্ড গঠন

ঘোষণাঃ