১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘ই- এমন এক ফখর উদ্দিন এক ঘন্টাও সময় দেয় না’- বিয়ানীবাজার পৌরসভার চলমান উচ্ছেদ অভিযান

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/10/coll.jpg?resize=1200%2C630

‘ফখর উদ্দিনের উচ্ছেদ অভিযান দেখেছি (সেনা শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান)- কিন্তু ২০০৭ সালের সে অভিযানকে হার মানিয়েছে বর্তমান পৌর মেয়রের উচ্ছেদ অভিযান। সত্যি এতো ভাল লেগেছে এ কথা ভাষা বুঝাতে পারব না- তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘ই- এমন এক ফখর উদ্দিন এক ঘন্টাও সময় দেয় না ।’

বিয়ানীবাজার পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় গত ২৭ সেপ্টেম্বর। অস্থায়ী মাছ বাজার উচ্ছেদের পরেই অস্থায়ী সবজিবাজার উচ্ছেদ করে পৌরসভা। এরপর প্রধান সড়ক ও কলেজ রোডে উচ্ছেদ অভিযানে পৌর মেয়রের নেতৃত্বে পৌরসভার কাউন্সিলর ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। উচ্ছেদ অভিযানে, ভবন, সিঁড়ি, অস্থায়ী দোকান সব কিছু গুড়িয়ে দেয়া শুরু করেন মেয়র আব্দুস শুকুর। উচ্ছেদ অভিযান প্রত্যক্ষ করে দীর্ঘদিন পৌরশহরে পান বিক্রি করা শাসা কান্তি দেব এ কথা বলেন।

পৌরশহর ও শহরতলী এলাকার অনেক ভবনের সামনের অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে পৌরসভার। কিছু ভবনের বর্ধিত অংশ মালিকদের ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সময় বেঁধে দেয়ার কারণে ভবন মালিকরা নিজ উদ্যোগে বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে দিচ্ছেন। এতে ঝঞ্জাবিকুব্ধ শহর থেকে পরিচ্ছন্ন শহরে রূপ পাচ্ছে বিয়ানীবাজার। এর পুরো কৃতীত্ব পৌর মেয়রসহ পৌরসভার দায়িত্বশীলদের।

প্রধান সড়কের উচ্ছেদ অভিযান শেষ পর্যায়ে। কিছু বহুতল ভবন নিজ উদ্যোগে মালিকরা সরিয়ে নেয়ার সময় চাওয়ায় মানবিক কারণে পৌরসভা সময় দিয়েছে। নির্ধারীত সময়ের মধ্যে এসব ভবনের বর্ধিত অংশ সরানো না হলে পৌরসভার শ্রমিকরা সরিয়ে দেবে। এছাড়া কলেজ রোডে সড়ক বর্ধিত করা এবং উভয় পার্শ্বে ড্রেন নির্মাণ করতে সড়কের দুই পাশ থেকে ৩ফুট করে জায়গা নিচ্ছে পৌরসভা। এতে সড়কের প্রশস্থতা বেড়ে ২৫ ফুটে দাঁড়াবে। পৌরসভার নির্দেশ মেনে ভবন মালিকরা নিজ উদ্যোগে ভবনের বর্ধিত অংশ ছেড়ে দিয়েছেন।

কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান শেষ করতে পারাটা প্রশংসনীয়। পৌর মেয়রের পাশাপাশি ভবন মালিকদেরও এ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সবাই উপলব্দি করার স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সবকিছু এগোচ্ছে- একথা বললেন শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনছার। তিনি বলেন, এ রকম উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সমাজকর্মী শাহাব উদ্দিন মৌলা বলেন, সৎ সাহস থাকলে এরকম উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়া যায়। কিন্তু নিজে অসৎ হলে ভাল উদ্যোগও ভেস্তে যায়। পৌর মেয়রের এমন সাহসী উদ্যোগ- এক কথায় অসাধারণ, বর্ণাতীত।

পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর বলেন, বর্তমান অভিযানটি অনেকের কাছে খটকা লাগলেও উচ্ছদ অভিযান শেষ হলে সে খটকা থাকবে না। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি পৌরশহরের বাসযোগ্য করে তুলতে। যাতে আরও কুড়ি বছরও পরও পৌরসভাকে আধুনিক মনে হয়। তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, চলমান অভিযানে অনেকের মনে আমরা কষ্ট দিয়ে থাকতে পারি- তবে কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের কাজ দিয়ে সবার মনোকষ্ট আমরা দূর করে দেব। শুধু সকলের সহযোগিতা চাই।

 

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজারে নৌকা প্রতীকের বিরামহীন প্রচারণায় নাহিদ

জকিগঞ্জে ১২ দিন ধরে নিখোঁজ বৃদ্ধ, অবশেষে হাওর থেকে লাশ উদ্ধার

বিয়ানীবাজারে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার- নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ফয়সল'র

বিয়ানীবাজারের সারপার বাজারে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন

বিয়ানীবাজার মুক্তিযোদ্ধা ড. খসরুজ্জামান চৌধুরী পাঠাগার উদ্বোধন কাল

জকিগঞ্জে ফুলতলী'র কবর জিয়ারতের মাধ্যমে গনসংযোগ শুরু করলেন জাপা'র প্রার্থী সেলিম

ঘোষণাঃ