১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জলাতঙ্ক নির্মূলে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহিতকরণ সভা- কুকুরকে দেয়া হবে তিন দফা টিকা

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/10/dog-desease.jpg?resize=1200%2C630

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে সিলেট জেলায় ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ কুকুরকে টিকা দান বিষয়ে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও ডা. ইশতিয়াক আহমেদ’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকশানা বেগম লিমা ও মুফতি শিব্বির আহমদ, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রণজিৎ আচার্য, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান নজমুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, জহুর উদ্দিন, আবু তাহের, সিহাব উদ্দিন, আব্দুল মান্নান ও গৌছ উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক হাসানুল হক উজ্জল, প্রেস ক্লাব সম্পাদক ও সাপ্তাহিক আগামী প্রজন্ম সম্পাদক মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ সম্পাদক আহমেদ ফয়সাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাছুম আহমদ, উপজেলা স্যানিটেশন ও ফুট ইনিস্পেক্টের হারুনুর রশিদ জলাত্মক প্রতিরোধ কার্মক্রমের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

সভায় বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভয়ংকর মরণব্যাধি। এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য। জলাতঙ্কের কারণে পৃথিবীতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যুঘটে। সে হিসেবে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই থেকে তিন লাখ মানুষ কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে থাকেন। এতে বছরে সহস্রাধিক মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং এর পাশাপাশি অনেক গবাদিপশুও এ রোগে মারা যায়। যার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম।

বক্তারা আরোও বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে ২০১০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি শাখার উদ্যোগে প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চলমান। যা ২০১৭ সালে জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচিতে উন্নীত করা হয়। উপজেলার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিরর এবং ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে প্রশিক্ষিতদের মাধ্যমে কুকুরদের তিনদফা টিকা প্রদান করা হবে।

এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি এবং প্রতিটি জেলা পর্যায়ে একটিসহ ৬৭টি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র চালু করা হয়। এসব কেন্দ্র থেকে কুকুরের কামড়ের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য জনবলের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চলছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিনামূল্যে এক লাখ ৮০ হাজার ইনজেকশন এবং দুই লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ জনকে প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা দেওয়া হয়। সারাদেশে এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি রোগীকে এ সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিডিসি শাখার উদ্যোগে ২০১১ সাল থেকে ৬ দশমিক ৫ লাখের বেশি কুকুরকে টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে গণসচেতনা বৃদ্ধি বিকল্প নেই।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারণায় সুইজারল্যান্ড আ.লীগ

বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র বার্তা সম্পাদক-যুগান্তর প্রতিনিধি অসুস্থ স্বপনের শয্যা পাশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

গোলাপগঞ্জে নৌকার সমর্থনে শিক্ষার্থী সংলাপ

'আমার নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ'- সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী

সিলেটে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে ম্যাচ।। মঙ্গলবার রাত থেকে মিলবে টিকেট

বিয়ানীবাজার ক্রিকেট লীগ- ঈগলস ক্লাব খাসাড়ীপাড়াকে হারালো ঘুঙ্গাদিয়া স্পোর্টিং ক্লাব

ঘোষণাঃ