১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/10/3-person.jpg?resize=1200%2C630

হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গোলাপগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। সমাজে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহায়তার ওপর নির্ভর করেই হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবন। কিন্তু তাদের প্রতি এমন মানবিক আচরণের প্রতিদানে উল্টো সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নানা অত্যাচার আর হয়রানি।

প্রতিনিয়ত উপজেলার প্রতিটি বাজারে চষে বেড়াচ্ছে হিজড়াদের সংঘবদ্ধ একটি চক্র। চাঁদা হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা। ব্যবসায়ীরা মান-সম্মানের কথা মাথায় রেখে নিরবে হজম করে যাচ্ছেন তাদের এ অনিষ্টতা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অশালীন ব্যবহার করতেও দ্বিধাবোদ করে না এরা।

প্রায় সময় জোরপূর্বক দোকান থেকে মালামাল পর্যন্ত নিয়ে যায় এই সংঘবদ্ধ হিজড়াচক্র। তাদের এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে কেউ বাধা প্রদান করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বাধাদান কারীর উপর চড়াও হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করে। ফলে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, হাট-বাজারে এদের অনিষ্টতা বেড়ে গিয়েছে।

সমাজে নানা অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়ছে হিজড়ারা। এদের অত্যাচার দিনদিন বেড়ে চলেছে। জানা যায়, সিলেট শহর থেকে প্রতিদিন উপজেলার প্রধান প্রধান বিভিন্ন বাজারে হানা দেয় এই হিজড়া চক্র। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিন উপজেলার কোন না কোন বাজারে চাঁদা আদায় করছে তারা।

হিজড়াদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ উপজেলার ঢাকাদক্ষিন বাজারের ব্যবসায়ী শেখ দেলওয়ার হোসেন বলেন- ‘হিজড়াদের একটি চক্র প্রতি সপ্তাহের যেকোন দিন বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের নাস্তে-নাবুদ করে তুলে। এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০টাকা পর্যন্ত প্রতিটি দোকান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।’

বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরীজীবি আব্দুস সালাম জানান- ‘প্রায় সময় হিজড়ারা আমাদের অফিসে এসে চাঁদা দাবি করে মান সম্মানের কথা বিবেচনা করে তাদেরকে টাকা দিতে বাধ্য হই। গত কয়েকদিন আগে অফিসিয়াল কাজে ঢাকা যাওয়ার পথেও রেহাই পাইনি এদের কবল থেকে।’

হিজড়াদের এসব চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য জরুরীভিত্তিতে উপজেলা প্রশানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং সরকারি উদ্যোগে তাদের পুনর্বাসন ও বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে যোগ্য কর্মী করে গড়ে তোলতে হবে বলে মনে করেন উপজেলার সুশীল সমাজের লোক। হিজড়ারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে পারছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এনিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া জনমনে। এরই প্রভাব হয়তো পড়তে পারে সমাজে । কিছু কু-চক্র মহল নিজস্ব স্বার্থস্বিদ্ধির জন্য হিজড়া রুপ ধারন করে চাঁদাবাজি করতে পারে। তাই তড়িৎ গতিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হিজড়া অপরাধ দমন করতে হবে এমন মতবাদ জানান উপজেলার সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান জানান- ‘হিজড়াদের বিরুদ্ধে এরকম কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। এবং হিজড়াদের প্রতি সমাজের সকলের সহানুভূতি প্রয়োজন যাতে করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।’

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারণায় সুইজারল্যান্ড আ.লীগ

বিয়ানীবাজার নিউজ২৪’র বার্তা সম্পাদক-যুগান্তর প্রতিনিধি অসুস্থ স্বপনের শয্যা পাশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

গোলাপগঞ্জে নৌকার সমর্থনে শিক্ষার্থী সংলাপ

'আমার নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ'- সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী

সিলেটে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে ম্যাচ।। মঙ্গলবার রাত থেকে মিলবে টিকেট

বিয়ানীবাজার ক্রিকেট লীগ- ঈগলস ক্লাব খাসাড়ীপাড়াকে হারালো ঘুঙ্গাদিয়া স্পোর্টিং ক্লাব

ঘোষণাঃ