১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আজ গীতিকবি শেখ ওয়াহিদুর রহমান’র ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/10/wahidur.jpg?resize=1200%2C630

মনিষী, দার্শনিক, জ্ঞানী-গুণীদের তীর্থ ক্ষেত্র ক্ষুদে নবদ্বিপ খ্যাত পঞ্চখণ্ড যা বর্তমানে বিয়ানীবাজার নামে পরিচিত। এখানে জন্ম নেয়া কৃর্তি পুরুষেরা আলোকিত করেছেন সমাজ ও সংস্কৃতিকে। তাদেরই একজন উত্তরসূরি হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাউল সাধক, গীতিকবি ও শিল্পপতি শেখ ওয়াহিদুর রহমান। ১৯৩৯ সালের ১২ই ফ্রেব্রুয়ারী জন্মগ্রহন করে জীবনের সাত দশকে পৌঁছে লোকগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি ও মরমী বাউল সাধক ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর ভোরে ঢাকার গুলশানস্থ নিজ বাসায় (বিয়ানীবাজার হাউজ) ৭৩ বছর বয়সে পাড়ি জমান পারাপারে।

গীতি কবিতার উপর তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। গীতি এ কবি শিল্পপতি হিসাবে সমধিক পরিচিত। দেহতত্ত্ব, আধ্যাত্মিক, প্রেমতত্ত্ব, দেশাত্মবোধক গানসহ প্রায় সহস্রাধিক গানের রচয়িতা এ গীতি কবির গানে ফুঠে উঠে গ্রামীণ আবহ। সাথে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, দৈন্যতা ও আধিকারের কথা।

পূবালী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানসহ ব্যবসায়িক অনেক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থা পরিচালকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। শেখ ওয়াহিদুর রহমান জীবনের শেষ সময়ে এসে তার নিজ বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসাড়িপাড়ায় শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমী স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি শেখ ওয়াহিদুর রহমান সংঙ্গীত বিদ্যালায় স্থাপন করেন। তাঁর স্থাপিত বেসরকারি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এর মধ্যে উপজেলাব্যাপী নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরী করেছ।

আউল-বাউল ওয়াহিদ সঙ্গীত সাধনাতে মগ্ন থাকলেও বাংলাদেশ ও রাজনীতি তার ভেতরে সদা বহমান ছিলো। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

কাঙ্গালীনি সুফিয়া ও ডলি সায়ন্তী’র কন্ঠে গাওয়া ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ ও ‘লাউয়ে পিছে লাগছে বইরাগী’ গান দুটি অসংখ্য গানসহ দেশের সীমা পেরিয়ে পৃথিবীর ভিবিন্ন দেশে জনপ্রিয় ও প্রসংশিত হয়। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষাক্ষেত্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

বাউল সাধক শেখ ওয়াহিদুর রহমান রচিত বাউল গীতি সমকালীন বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। বেতার টেলিভিশনে অহরহ তার রচিত বাউলগীতি পরিবেশিত হয়। ওয়াহিদ রচিত বাউল গীতির সংখ্যা দু`হাজারের বেশি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশটি।

প্রতিবছর সিলেট জেলার বহুল পরিচিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিয়ানিবাজারে যে বিশাল বাউল মেলা (যা ওয়াহিদ মেলা নামে পরিচিত) অনুষ্ঠিত হয়, তাতেও যোগ দেন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বহু গুণী-জ্ঞানী ব্যক্তি।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই তিনি প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে বিক্ষোভ করেন জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেও তিনি উপস্থিতি ছিলেন। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্থ সংগ্রহ ও তাঁর ব্যক্তিগত সাহায্য ছিল উল্লেখ্যযোগ্য।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তাঁর অসীম ভালোবাসা, বঙ্গবন্ধু আদর করে ডাকতেন দুষ্টু ছেলে। তাঁর এই দুষ্টু ছেলেটি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা করেন ও পরে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বরণ্য এ ব্যক্তির ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়েছেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বক্তিবর্গ। তাঁর বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

এদিকে, শেখ ওয়াহিদুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়াস্থ তার বাসভবনে কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল, এতিমখানায় সহযোগিতা এবং শিরনীর আয়োজন করা হয়েছে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

জকিগঞ্জের সন্তান ডা. মোর্শেদ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য

কোয়াব বিয়ানীবাজার ক্রিকেট একাডেমীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুক্রবার

সিলেট-০৬ আসন।। কে পাচ্ছেন বিএনপি'র ধানের শীষ

পিএসএলে খেলবেন সিলেটের জাকির!

বিয়ানীবাজারে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আগামী রবিবার

ফিরে দেখা- সংসদ নির্বাচন ২০০৮।। সিলেটের ৬টি আসনের নির্বাচনী অবস্থা

ঘোষণাঃ