২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জুড়ীতে জাম্বুরার বাম্পার ফলন ।। বিদেশেও চাহিদা বাড়ছে

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/09/jambura.jpg?resize=1200%2C630

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও যথাসময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় জুড়ী উপজেলায় জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। জাম্বুরার চারা রোপনের ৫/৭ বছরের মধ্যে ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি গাছের গড় আয়ু ৩০/৫০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে, ধারাবাহিকভাবে ফলনও পাওয়া যায় দীর্ঘদিন।

বাতাবি লেবু বা জাম্বুরা চাষাবাদের মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন অত্রাঞ্চলের চাষীরা। তাদের ভাগ্য খুলেছে, পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। তাদের উৎপাদিত জাম্বুরা মানসম্মত ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে দেশ ও বিদেশে। কাস্টম ও প্রবাসীদের মধ্য দিয়ে জুড়ীর জাম্বুরা এখন বিদেশেও যায় বলে জানালেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে বিদেশে পাঠানোর আগে ইনতাক্স রোগসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক রোগ পরীক্ষা করে, রোগমুক্ত ফল হলে প্রেরণ করা হয়।

জানা গেছে, জাম্বুরা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ একটি সুপরিচিত লেবু গোত্রের ফল। গ্রামীণ জনপদের পাহাড়ি অঞ্চলের টিলাগুলোতে এর ফলন ভালো হয়। জুড়ী উপজেলায় জাম্বুরার বাণিজ্যক কোন বাগান নেই। বেশির ভাগই বসতবাড়ি, স্কুল, কলেজের আশপাশে ও পতিত জায়গায় জাম্বুরা চাষ করা হচ্ছে। কোন কোন অঞ্চলে এটি বাতাবি লেবু নামেও পরিচিত। অন্যান্য ফলের তুলনায় যেমন দামে সস্তা, তেমন পুষ্টিতেও ভরপুর।

টক-মিষ্টি এ ফলটি লবণ-মরিচ মিশিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ ভালো লাগে। জাম্বুরা লেবু গোত্রের ফল হলেও স্বাদ অনেকটা আঙ্গুরের মতো। জাম্বুরা ফল হিসেবে যেমন চমৎকার, তেমনই পুষ্টিও ব্যাপক। আশ্বিন থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত ফলটি গাছে গাছে দোলতে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি পাঁকে আশ্বিন থেকে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রতি হেক্টরে ১৫/২০ মেট্রিকটন ফলন উৎপাদন করা সম্ভব। যা বিক্রয় করে অসচ্ছল পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার হায়াছড়া, শুকনাছড়া, জামকান্দি, দূর্গাপুর, গোবিন্দপুর, বিনোদপুর, লালছড়া, রোপাছড়া, লাঠিটিলা, কুচাইরতল, কচুরগুল,কালাছড়া, ও পুটিছড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের টিলাবাড়ি বা বসতবাড়ির আশপাশে ৬৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ হাজার জাম্বুরা গাছ, ১৩শ কৃষক চাষাবাদ করছেন। গাছ প্রতি ২০০/৫০০টি জাম্বুরার ফলন হয়েছে। এগুলো বেশির ভাগই স্থানীয় জাতের। অত্রাঞ্চলের চাষিরা অন্যান্য ফসলাধি চাষাবাদের পাশাপাশি জাম্বুরা চাষাবাদে আগ্রহ ও উৎসাহ দেখাচ্ছে।

হায়াছড়া গ্রামের ইব্রাহিম আলী, মঈন উদ্দিন, শুকনা গ্রামের জুবায়ের আহমদ, পুটিছড়া গ্রামের আব্দুল খালিক, লালছড়া গ্রামের মোরশেদ ও রোপাছড়া গ্রামের বাবুল মিয়া জানান, যদি জাম্বুরা চাষে স্থানীয় বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যেত, তাহলে এ চাষাবাদে অনেকেই আরো আগ্রহী হতেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি ১০/১২ টাকা দামে বিক্রি হয়। পাইকারদের কাছ থেকে ক্রেতারা ৩০/৪০ টাকার কমে কিনতে পারনে না।

যার ফলে চাষিদের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন পাইকারি ক্রেতারা। তারা বলেন, জুড়ী বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায়, চট্রগাম, সিলেট ও ভৈরব বিক্রি করতে নিয়ে যাই। সেখানে জাম্বুরার ভাল চাহিদা রয়েছে এবং ভাল দামও পাওয়া যায়।

জুড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, জুড়ীর জাম্বুরার চাহিদা রয়েছে দেশ ও বিদেশে। চাষিদের ন্যায্য মূল্য পেতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামীতে আরো ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেটে আলোচনায় তিন চৌধুরী।। সুবিধাবাদীরা মুহিত ছেড়ে মোমেনের পাশে

অবশেষে বিমানবন্দরে বিদায় বেলা সকলকেই কাছে পেলেন মুহিত!

সিলেটে এসে রানের খরা কাটালেন সাকিব-তামিম-সাব্বিররা

আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে গোলাপগঞ্জের ‘আলোর ফেরিওয়ালা’

সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন বড়লেখার ফারহানা

উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র বর্ণিল অভিষেক

ঘোষণাঃ