১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

৬৯ কোটি টাকায় নির্মিত তামাবিল স্থলবন্দরের ইয়ার্ড এখনো আয় শূন্য

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/08/1507977801.jpg?resize=730%2C442

২০০২ সালে তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নিত করার ঘোষণা দেয় সরকার। প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৫ সালে স্থল বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহন ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে ২৭ অক্টোবর ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তামাবিল স্থলবন্দরের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

প্রায় ২৩.৭২ একর ভূমির এই স্থলবন্দরটি চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এর ইয়ার্ড ব্যবহার হয়ে কোন টাকা আয় হয়নি। এ নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল আয়তনের এ স্থলবন্দরটির দেওয়ালের তিন পাশে ভারত থেকে আমদানীকৃত কোটি কোটি টাকার কয়লা, পাথর ও চুনাপাথর মজুদ রয়েছে।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পার্শ্বে ও তামাবিল স্থলবন্দরের বাউন্ডারী ওয়াল ঘেঁষে কোটি কোটি টাকার আবদানীকৃত কয়লা ও পাথর বিদ্যমান থাকলেও ওই মজুদকৃত পাথর ও কয়লা থেকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইয়ার্ড ব্যবহার বাবদ একটি পয়সাও নিতে পারছেনা। অপরদিকে স্থলবন্দরটির পূর্ব দিকের ওয়াল ঘেঁষে বন বিভাগের বিশাল এলাকায় কোটি কোটি টাকার কয়লা ও পাথর মজুদ করে রেখেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছোটখাটো কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিবেদককে জানান- ব্যবসায়ীরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ও বন বিভাগের কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। পক্ষান্তরে বন বিভাগ ও সড়ক ও মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের উধারতায় তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের আমদানীকৃত মালামাল তাদের নিজস্ব ইয়ার্ডে ব্যবহার না করায় কোটি কোটি টাকা হারাচ্ছে। এছাড়া তামাবিল স্থলবন্দর ও তামাবিল কাস্টমসের সমন্বয়হীনতার কারণে এ স্থলবন্দরে বিশাল অংকের টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে তামাবিল স্থলবন্দরের ওয়াল ঘেঁষে বন বিভাগের জায়গায় কয়লা ও পাথর মজুদকারী ব্যবসায়ী ছেদু মিয়া, রহিম খা, জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা মহাজিরদের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করে মালামাল মজুদ করছি।

অপরদিকে সারি বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিক বলেন, ব্যবসায়ীরা বন বিভাগের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালন করছেন। এ নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা চলছে।

তামাবিল স্থল বন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন, ভারত থেকে আমদানীকৃত পাথর, কয়লা, চুনাপাথরসহ সকল রনের জিনিস পত্র তামাবিল স্থল বন্দরের ইয়ার্ডে মজুদ রাখতে ব্যবসায়ীরা চান না। কারণ, অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়ে এ স্থলবন্দরটিতে সরকারী ফি’র পরিমাণ বেশি রয়েছে।

এদিকে সিলেট কাস্টমস কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানীকৃত পন্যগুলি স্থল বন্দেের ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে চান না। ব্যবসায়ীরা কাস্টমের কাজ শেষ করে দ্রুত শহরে যেতে চান।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্তের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, তামাবিল স্থল বন্দর নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে এ জটিলতার সমাধান হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্থল বন্দরের ইয়ার্ড ব্যবহার করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কানাইঘাট-জকিগঞ্জের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে লাঙলে ভোট দিন- গাছবাড়ীতে জাপা'র প্রার্থী সেলিম

গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৪

সিলেটে তামিম-সৌম্যের ব্যাটে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

আগামীকাল শনিবার বিয়ানীবাজারে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না

কানাইঘাটের রাজগঞ্জে লাঙল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন ও গণসংযোগ

ঘোষণাঃ