১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে ৪০ হাজার নারীকে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/08/Beanibazar-news-09.jpg?resize=720%2C395

আর্থিকভাবে সচ্ছল বিয়ানীবাজার উপজেলাবাসী দিন দিন কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে প্রতি বছর বাড়ছে পতিত জমির পরিমাণ। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শাক-সবজি ও ফসলের ঘাটতি। পতিত জমির পরিমাণ হ্রাস করতে উপজেলার ৪০ হাজার গৃহিণীকে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পতিত জায়গা আবাদের আওতায় এলে এ উপজেলার চিত্র পাল্টে যাবে বলে আশা সংশ্নিষ্টদের।

এরই মধ্যে ‘কৃষি উন্নয়নে নারী’ স্লোগানকে ধারণ করে গৃহিণীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছেন সংশ্নিষ্টরা। একই সঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক ‘কৃষাণি সমবায় সমিতি’ গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রক্ষণশীল উপজেলা হওয়ায় নারীদের নিজ বাড়ির আঙিনা, আশপাশের পতিত ভূমি ও বাসার ছাদে সবজি বাগান করার মাধ্যমে পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন দায়িত্বশীলরা।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাসিন্দা প্রায় তিন লাখ। গত দুই দশক থেকে এ উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক ফসল আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নারী তো দূরের কথা, অধিকাংশ পুরুষই এখন কৃষিকাজে আগ্রহী নন। ফলে মৌসুমি ফল ও শাক-সবজির ঘাটতি পূরণ করতে উপজেলাবাসীকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর উপজেলায় পাঁচ হাজার টন ধান উদ্বৃত্ত থাকে। এ ছাড়া প্রচুর লেবু ও কাঁঠাল আবাদ হলেও সে তুলনায় অন্যান্য ফসল ও সবজি আবাদ একেবারে কম, যার কারণে উপজেলার চাহিদার বিপরীতে দুই-তৃতীয়াংশ সবজি ঘাটতি রয়েছে। শাক-সবজির ঘাটতি পূরণ এবং পতিত ভূমি আবাদের লক্ষ্যে ২০টি পরিবারের একেকটি গ্রুপ করে গৃহিণীদের প্রশিক্ষণ, সাধ্যমতো সার, বীজ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

লাউতা ইউনিয়নের নিজ বাহাদুরপুর গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, আগে শুধু শীতকালে বাড়িতে শিম, লাউ গাছ রোপণ করা হতো। এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু এক মৌসুমে নয়, সারাবছর সবজি চাষ করা যায়। বাড়ির পাশে কীভাবে সারা বছর সবজি চাষ করা যায় সে বিষয়ে তারা আমাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। একই গ্রামের লাকি বেগম জানান, বাসার ছাদেও সবজি চাষ করা যায় বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তিনি এখন ছাদে সবজি চাষের বিভিন্ন বিষয় শিখছেন।

কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, প্রত্যেকের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পতিত জায়গা কাজে লাগালে ঘাটতি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। সে লক্ষ্যে গ্রুপভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ ও উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। কৃষাণি সমবায় সমিতি গঠনের পাশাপাশি কৃষাণীদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান, সরকারি কাজে সম্পৃক্ত করাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, এ উপজেলার বেশিরভাগ পুরুষ কৃষিকাজে আগ্রহী নন। সে ক্ষেত্রে নারীদের কৃষিকাজে আগ্রহী করা কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গৃহিণীরা কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হলে ফল-ফসল কিংবা শাক-সবজির চাহিদা পূরণ হবে। এতে সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সুষম খাদ্যের অভাব দূর হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে তারা স্বাবলম্বী হবেন। এ ছাড়া এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

লাউতা ইউনিয়ন জাপা'র সভাপতি ছিদ্দেক আলীর মৃত্যুতে হুইপ সেলিম ও উপজেলা জাপা'র শোক

বিয়ানীবাজারে দুইদিনব্যাপী সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন

আগামী বুধবার বিয়ানীবাজারে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী

সিলেটে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ।। আটক ১

গোলাপগঞ্জে ২টি চোরাই গরুসহ প্রাইভেটকার জব্দ

ঘোষণাঃ