১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে আলম হত্যা- বাদী পক্ষকে হয়রানির অভিযোগ ।। ভয়ে বাড়ি ছাড়া আলমের পরিবার

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/02/3333333333333333333.png?resize=720%2C400

বিয়ানীবাজারে সিএনজি চালক আলম হত্যার মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-চাপ এমনকি মামলা তুলতে স্বীকৃতি জানানো বাদীসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানি মুলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালতে বিবাদী পক্ষের দায়ের করা অভিযোগে বাদী চম্পা বেগমসহ ৮জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতে অভিযোগটি দায়ের করে আসামীর ভাবি আয়েশা বেগম।

পুলিশ আদালতে দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করে বাদীসহ পাঁচজনের কোন সম্পৃক্ত না পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বাদ দিয়েছে। অভিযোগ থেকে বাদী পাঁচজন ছাড় পেলেও বিবাদীর পক্ষের লোকজন ভয়প্রীতি ও হুমকির থেকে তারা রেহাই পাচ্ছেন না। আলমের মা মামলার বাদী চম্পা বেগম বলেন, পুত্র খুনের বিচার চাইতে গিয়ে এখন জীবন মৃত্যুর হুমকিতে আছি। তারা আমার ছেলেরে মারছে. এখন আমরারেও শেষ করে দিতে চায়। তাদের ভয়ে আমরা আত্মীয়দের বাড়িতে আছি। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসলেও থাকতে পারছি না।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সিএনজি চালক আলম হোসেনকে। নিহত আলমের বাড়ি বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়িপাড়া গ্রামে। ঘটনার পরের দিন আলমের মা চম্পা বেগম বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ১২ আসামীর মধ্যে প্রধান আসামী মতিউরসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আরো ৪ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে পলাতক আসামী ফুহাদ হাসানসহ অন্য তিনজনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

বাদী পক্ষের অভিযোগ, পলাতক আসামী ফুহাদ হাসান ও তার চাচা আতাউর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আলমের মা মামলার বাদী চম্পা বেগমসহ বাদী পক্ষের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকী ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। মামলার সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় আদালতে আতাউর তার ভাবীকে দিয়ে আলমের বৃদ্ধা মা ও সদ্য বিবাহিতা বোনসহ বাদী পক্ষের ৮ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। তার সাথে সমঝোতায় না আসলে আরও মামলা দিয়ে হয়রানী করার ও হুমকি দিচ্ছে আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামী মতিউরের ভাই আতাউর। তার ভয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া আলমের পরিবার। আলমের মা ও বিবাহিত এক বোন নিয়ে মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসলে বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বিবাদী পক্ষের লোকজন।

আলমের মা চম্পা বেগম বলেন, আমি বৃদ্ধ মানুষ। আমার প্রানের ধন হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা। আমি আমার ছেলের খুনিদের শাস্তি দেখে মরতে চাই। কিন্তু এখন উল্টো আমাকে আসামী করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ তারিখে কোর্টে হাজির হয়ে এসেছি। উকিল বলেছে কয়দিন পরে আবার যেতে হবে এখন আমি বৃদ্ধ মানুষ কিভাবে এই কষ্ট সহ্য করবো।

বাদী পক্ষের এমন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় কাউন্সিলর মিছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আদালতে একটা মামলা হয়েছে শুনেছি, তবে এখানে আলমের মাসহ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন।’ আলমের পরিবারকে হয়রানীর জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে আমরা এলকাবাসী প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি বলেন, আলম হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে মামলার প্রধান আসামী মতিউরসহ একাধিক আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হয়রানীর বিষয়ে তিনি বলেন, মতিউরের ভাবী আয়শা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। আমরা সঠিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করেছি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়রানী বা হুমকীর কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজার জনতা ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানি ও অশোভন আচরনের অভিযোগ

খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের প্রয়াত শিক্ষক মোফাখখারুল হক শিশির স্মরণে দোয়া মাহফিল

বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনের মোটর সাইকেল চুরি

কানাইঘাটে জমি নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

৫০ বছর পূর্ণ করলো বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ

কলেজ রোডের নাম পরিবর্তন ও সড়কের পাশে বর্জ্য- যুক্তরাজ্যে মাথিউরা ইউনিয়নবাসীর প্রতিবাদ-নিন্দা

ঘোষণাঃ