২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্লাবিত এলাকায় নিরামিষ ঈদ আনন্দ- ঘরের ভেতর হাটু পানি।। দায়িত্বশীলদের পরিদর্শন

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/06/654-3.jpg?resize=720%2C395

মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ঈদ আনন্দ মাটি হয়েছে গেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার কুশিয়ারা নদী বেষ্টিত তিন ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশ এলাকার অধিবাসীদের। গত বৃহস্পতিবার হুট করে নদীর ডাইক ভেঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করে বানের জল। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে চোখের সামনে তলিয়ে যায় বসত ভিটা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্লাবিত এলাকা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার আলীনগর ও চারখাই এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধিতে দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার ও পৌরসভার শ্রীধরা এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার প্লাবনের শংকায় রয়েছে উপজেলার মুড়িয়া, তিলপাড়া, মাথিউরা ও মোল্লাপুর ইউনিয়নের অধিবাসীরা। মুড়িয়া হাওরে কুশিয়ারা পানির প্রবেশ করায় মুড়িয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর শাখা নদী লোলা গাঙ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় মাথিউরা, তিলাপাড়া ও মোল্লাপুর ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিরণ বলেন, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে আজ শনিবার দুপুরে বিপদ সীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ ডট কমকে অবহিত করেন।

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে কবলিত এলাকার অধিবাসীরা হাটু পানি ভেঙ্গে ঈদগাহ মাঠে জমায়েত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ভুক্তভোগী এলাকার অধিবাসী এস চৌধুরী হিরণ বলেন, পানি প্রতিদিন বাড়ছে। কাকরদিয়া এলাকিার অধিকাংশ বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আর পানি বৃদ্ধি পেলে ঘরে বসবাস করা কষ্টকর হবে।

বন্যা কবলিত এলাকার বাড়ি-ঘরে হাটু। এ অবস্থায় দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে শেষ দুই রোজা ও ঈদ কাটিয়েছেন অধিবাসীরা। ঘরে ভেতরে পানি উঠে যাওয়ায় চৌকি, খাট ও টেবিলের উপর জরুরী প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র রেখে কোন মতে জীবন ধারণ করছেন। মূল্যবান সামগ্রি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

শুক্রবার ও আজ শনিবার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান ও পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের অধিবাসীরা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত এলাকা নদী থেকে ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, দুর্গত এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা হাওয়া হয়েছে। সরকারি ত্রাণ আসা মাত্র বন্যার্থদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া কবলিত এলাকার চেয়ারম্যানদের যেকোন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

দুবাগ স্কুল এণ্ড কলেজ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ।। কলেজে আশফাক-শফিক, স্কুলে মাসুক-রুহেল নির্বাচিত

সাংবাদিক আহমদ রেজা চৌধুরী'র দাদীর ইন্তেকাল ।। সাংবাদিক মহলের শোক

বিয়ানীবাজারে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাগরিক সনদ জালিয়াতির অভিযোগ

বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত ।। হাসপাতালে ভর্তি

বিয়ানীবাজারে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিক্ষার্থী আহত ।। অভিযোগ দায়ের

বিয়ানীবাজারে পুলিশের অভিযানে ছাত্র শিবিরের দুই নেতা গ্রেফতার

ঘোষণাঃ