২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন।। ফের আরিফ-কামরান নাকি নতুনের লড়াই

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/05/sisik.jpg?resize=720%2C411

আর মাত্র দুই মাস পর অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ৩০ জুলাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩ জুন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। অবশ্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগেই তৎপরতা শুরু করেছেন।

এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে সিসিকের মেয়র নির্বাচন হবে। এ পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে অনেক দিন ধরেই মাঠে রয়েছেন হাফ ডজনের বেশি নেতা। তবে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস ইতিমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জাতীয় পার্টির একজন নেতাও মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়নের পাশাপাশি জোটগত মনোনয়ন নিয়ে টানাপড়েন দেখা দেওয়ায় ভোটের মঞ্চ তাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে এখানে মেয়র পদে মূল লড়াই হয়েছিল বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মধ্যে। দুইবারের মেয়র কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র হয়েছিলেন আরিফ। এ নির্বাচনে সালাউদ্দিন রিমন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও হাজারখানেক ভোট পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। আসন্ন নির্বাচনেও মেয়র পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি কামরান দলীয় মনোনয়নে

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে কামরান ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে এই পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন আরও কয়েকজন। একইভাবে বিএনপিতেও দলীয় প্রার্থী হতে আরিফের পাশাপাশি মনোনয়ন চাইছেন আরও অন্তত তিনজন বিএনপি নেতা।

এ পরিস্থিতিতে মেয়র পদে উভয় দল থেকে পুরোপুরি নতুন মুখের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা। আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। এ ছাড়া নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদও মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী।

গতকাল তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে আসাদ উদ্দিন আহমদ সমকালকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তু্তুতি নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিপুল সাড়া পেয়েছি। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আসাদ। মনোনয়ন না পেলেও ‘বিদ্রোহী’ হবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত নন। তবে সিলেটে তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। গতকাল বিকেলে মনোনয়ন চাইবেন জানিয়ে তিনি সমকালকে বলেন, সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী মাঠে আছি। সুন্দর ও আধুনিক নগরী গড়তে সিলেটে এবার পরিবর্তন প্রয়োজন।

সিসিকে প্রথম দু’বার মেয়রের দায়িত্ব পালনের আগে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন কামরান। গত বছরের জুলাই মাসে মেয়র পদে দলের হয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ও পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। গতকাল কামরান সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় গণতান্ত্রিক দল। এখানে অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন, যারা মনোনয়নও চাইতে পারেন। তবে দল গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একজনকেই মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে কখনও হারবে না।

গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও ছিলেন সিলেট মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইবেন তিনি। এ ছাড়াও মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে চাইছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর সহসভাপতি ও নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের কাউন্সিলর এবং বর্তমান প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। গত বছরের শেষদিকে লন্ডন সফর শেষে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন সেলিম। বিষয়টিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘আশীর্বাদ’ বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে গত কয়েক দিন আগে সেলিম ফের লন্ডন সফরে গেছেন। সেখানে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শুরুতে বর্তমান মেয়র আরিফও লন্ডনে গিয়ে তারেকের সঙ্গে দেখা করেন।

লন্ডন মিশনের পাশাপাশি সেলিম নগরীতে সিসিকে দলীয় কাউন্সিলর, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করে সহযোগিতা চেয়েছেন। আগামী ঈদুল ফিতরের পরপর তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর গতকাল বিকেলে মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইন সমকালকে বলেন, আশা করি এবার নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে খুলনায় যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সিলেটে এমন নির্বাচন হলে বিএনপি আদৌ নির্বাচনে যাবে কি-না; দল অবশ্যই তা ভেবে দেখবে। নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু ম্যাডাম তখন পরে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এবার তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও চাইছেন তিনি যেন নির্বাচন করেন। দীর্ঘদিন নির্বাচনের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকলেও গতকাল বিকেলে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন, ইনশাল্লাহ মনোনয়ন চাইব এবং নির্বাচন করব।

এদের পাশাপাশি গত বছরের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ইসলামিক ল ইয়ার্স কাউন্সিলের স্থানীয় এক সভায় মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দলীয়ভাবেও তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে তাকে মেয়র পদে ‘একক’ প্রার্থী করতে জামায়াত সর্বোচ্চ ‘চাপ’ দেবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মহানগর খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক কেএম আবদুল্লাহ আল মামুনকে দলীয়ভাবে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুস সামাদ নজরুল মেয়র পদপ্রার্থী হতে আগ্রহী। দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: দৈনিক সমকাল

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

দীর্ঘ ৫ বছর বন্ধ থাকার পর চান্দগ্রাম-বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কে মিনিবাস সার্ভিস শুরু

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশে কানাইঘাটের ডা. রেজা আলী

৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর

দাবি আদায় না হলে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট

কাল থেকে শুরু হচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে যা বললেন আ.লীগের পরাজিত প্রার্থী পাপলু

ঘোষণাঃ