২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চড় মারার প্রতিশোধ নিতেই বড়লেখার স্কুলছাত্র হাসানকে হত্যা

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/05/4322111.jpg?resize=720%2C395

বড়লেখার স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ হাসান (১৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত তাদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক এরশাদ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত বুধবার (২৩ মে) বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাসান জামানের আদালতে এরশাদ মিয়া ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। চড় মারায় অপমানের প্রতিশোধ নিতে স্কুলছাত্র হাসানকে নির্মমভাবে হত্যা করে সে-এমনটি আদালতকে জানিয়েছে এরশাদ।

ঘটনার প্রায় পৌনে চার মাস পর সূত্রবিহীন চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গাড়িচালক এরশাদ মিয়া ভোলা জেলার শশীভুষণ থানার চরমায়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস আগে হাসান তাদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক এরশাদকে চড় মারে। গ্যারেজে গাড়ি রাখতে গিয়ে কিশোর হাসানের শরীরে গাড়ি লাগিয়ে দেয় এরশাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান এরশাদকে চড় মারে ও গালিগালাজ করে। অবশ্য এ ঘটনায় কিশোর হাসান গাড়ি চালকের নিকট কয়েকবার ক্ষমাও চেয়েছিলো। কিন্তু এরশাদ মিয়া তাকে ক্ষমা করেনি। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে এ অপমানের প্রতিশোধ নেয় সে। অপমান বোধ থেকেই সে হাসানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। জরুরী কথা আছে বলে হাসানকে নির্জন টিলায় নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এরশাদ। এ হত্যা মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের প্রায় তিন মাসের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শিবিরুল ইসলাম এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেন।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি রাতে আব্দুল্লাহ হাসান বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুর রহিমের ছেলে এবং সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মনির আহমদ একাডেমীর নবম শ্রেণীর ছাত্র। ছেলে নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে ২৩ জানুয়ারি দেশে ফিরেন আব্দুর রহিম। নিখোঁজের ১০ দিন পর ২৮ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদনগর এলাকার একটি নির্জন টিলার ঢালু স্থানে আব্দুল্লাহ হাসানের খণ্ডিত পচা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি প্রবাসী আব্দুর রহিম ৩ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন আব্দুর নূর বলাই (৫০), তার ভাই বদরুল ইসলাম এবং বাদীর ভাতিজা তারেক আহমদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসামীদের রিমান্ড শেষে স্কুলছাত্র হাসান হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তাদের নিকট থেকে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছিলো। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ পরিদর্শক শিবিরুল ইসলাম জড়িত গাড়িচালককে গ্রেপ্তার ও আদালতে চালকের দেয়া স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্কুলে দিয়ে আসার সময় হাসান এরশাদকে চড় মারে ও গালিগালাজ করে। এতে এরশাদের মনে ক্ষোভ জন্মে। এ থেকেই সে ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে। সে (এরশাদ) ঠাণ্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ হত্যাকাণ্ড ঘটালেও সে থেকেছিলো সন্দেহের উর্ধ্বে। তার (এরশাদের) তিনটি কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে আমরা তদন্ত করি। এর মধ্যে সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপন করে। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।এসব কারণে তাকে আটকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১৯ মে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু এরশাদ ৩ দিনের মধ্যেই লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেয়।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশে কানাইঘাটের ডা. রেজা আলী

৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর

দাবি আদায় না হলে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট

কাল থেকে শুরু হচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মেয়র পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে যা বললেন আ.লীগের পরাজিত প্রার্থী পাপলু

বিশ্বকাপ ট্রফির সিলেট ভ্রমণ

ঘোষণাঃ