২৭শে মে, ২০১৮ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা লাঞ্ছিত ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন চেয়ারম্যান

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/02/abul-khayer.png?resize=720%2C400

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলীর কন্যা রইতুন নেছাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  আবুল খায়ের। গত রবিবার উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার এম এ কাদির, মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আখতার, মুছব্বির আলীসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে তিনি ক্ষমা চান।

একইভাবে গত শুক্রবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা রইতুন নেছার বাড়ি গিয়ে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রইতুন নেছাকে পচাত্তর হাজার টাকা জরিমানা হিসাবে প্রদান করেছেন চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন বলেন, উপজেলা সম্মেলন কক্ষে সকল মুক্তিযোদ্ধার সামনে তিনি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় তার উপর থেকে অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধারা তুলে নিয়েছেন।

পৌরসভা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আলী হোসেন বলেন, ফেসবুকসহ অনেক বুদ্ধিজীবী দেখেছি বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। এতে আমরা বিক্ষুব্ধ ছিলাম। যাই হোক শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এসেছে এবং চেয়ারম্যান তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ঘটনার পর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি তদন্ত শেষ হয়নি। অভিযোগের বেশ কিছু প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে সম্প্রতি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা একটি লিখিত পত্রে জানিয়েছেন বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যার কাছে সকল দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তারা অভিযোগ তুলে নেন।

মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আখতার বলেন, চেয়ারম্যান এ ঘটনায় সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার কন্যার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জরিমানা ৭৫ হাজার টাকাও প্রদান করেছেন।

বিষয়টি শেষ হয়েছে জানালেও কোন প্রক্রিয়ায় শেষ হয়েছে সেটি বলতে নারাজ চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে একটি ঘটনা নিষ্পত্তি যেভাবে হয় সেভাবে হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, শুনেছি ঘটনাটির একটি সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হয়েছে। এ রকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা আর যেন না ঘটে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়ের করা অভিযোগ তদন্তাদীন থাকা অবস্থায় সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় তদন্ত শেষ করার আর প্রয়োজন পড়েনি। এ ঘটনায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, এসব বিষয়ে সকলেরই উচিত আরো দায়িত্বশীল হওয়া।

প্রসঙ্গত, বিয়ানীবাজারের মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সরকারি চাল বিতরণকালে গত ১৭ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ও সদস্য আব্দুল কাইয়ুম শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে লাঞ্ছিত করেন। লাঞ্ছিত হওয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা রইতুন নেছা সিলেটের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ ফেটে পড়েন। তারা দোষীদের শাস্তি দাবি করে গত ২৬ ডিসেম্বর পৌরশহরে মানববন্ধন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন।

 

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

ওসমানি হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. সালামসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদক’র মামলা

গোলাপগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিজ ক্ষেতে ৩ ভাই আহত

সিলেটে বজ্রপাতে তিন ভাইয়ের মৃত্যু

গোলাপগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিয়ানীবাজার সিএনজি চালকদের কাছে অসহায় যাত্রীরা- প্রতিদিন ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা

ভারতে অনুপ্রবেশকালে কুলাউড়ায় শিশুসহ দম্পতি আটক

ঘোষণাঃ