১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পূর্ব সিলেটের মধ্যে একমাত্র শাকুর মজিদ পেলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/02/653.png?resize=720%2C400

বহুমাত্রিক প্রতিভা ও সৃষ্টিশীল কর্মের যাদুকর শাকুর মজিদ। শিল্প-সাহিত্যের যে জায়গায় হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন এ গুণী মানুষ। তাঁর সফলতার সিঁড়ি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন নতনু পালক।

ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজ ও বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে লেখাপড়া করলেও তাঁর সৃষি্টশীল কর্মকান্ড অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভ্রমণ কাহিনীতে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য।

বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর শাকুর মজিদসহ তিন পদকপ্রাপ্তদের নিয়ে ভক্তদের কোলাহল

ভ্রমণ কাহিনীর শৈল্পীকতায় গত কয়েক বছর থেকে তিনি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া বিষয়ে বোদ্ধামহলে সোরগুল শুরু হলে তিনিবার তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। অবশেষে এবার তাঁর ভাগ্যে ধরা দিল বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার। ভাঙ্গা হাত নিয়ে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক, সম্মাননা গ্রহণ করলেন বৃহস্পতিবার। এ পদক পূর্ব সিলেটের জনপদের জন্য বিরল প্রাপ্তি। তিনি পদক প্রাপ্তি মাধ্যমে পূর্ব সিলেটের একমাত্র সন্তান হয়ে এ চার উপজেলার মানুষের মুখ উজ্জল করলেন।

১৯৬০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রর্বতনের পর এই পর্যন্ত ২শত ৮৯জন এ সম্মাননায় সিক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে ১০জন ইতিমধ্যে সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। এ বছর সাহিত্যের ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ১২জন পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সিলেট বিভাগের ৩জন হলেও পূর্ব সিলেটের (গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার উপজেলা) মধ্যে এই প্রথম শাকুর মজিদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদদ লাভ করলেন।

বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর শাকুর মজিদ টিভি ক্যামেরার সামনে

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি প্রঙ্গানে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের ম্যাধমে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।  অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ প্রথম সারির ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের প্রতিউত্তরে শাকুর মজিদ বলেন- পুরস্কারপ্রাপ্তি আনন্দের। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার একজন লেখকের জীবনে বড় প্রাপ্তি। তিনি আরো বলেন, কম সময়ের মধ্যে পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে নতুনভাবে লেখায় মনোযোগী হবো।

সাহিত্য পদকপ্রাপ্তিতে অনুষ্ঠানস্থল, বাংলা একাডেমির মূল ভবন ও বইমেলা নানা প্রাঙ্গনে শাকুর মজিদের ভক্ত- অনুরাগীরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান, তাকে ঘিরে চলে আড্ডা ও ফটো সেশন।

উল্লেখ্য, শাকুর মজিদ ১৯৬৫ সালে ২২ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা দোয়াখা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল মজিদ ও মাতা ফরিদা খাতুন। বিশ্বের প্রায় ৩০ দেশ ভ্রমণ করে ২১টি ভ্রমণকাহিনীসহ ৩০টি অধিক বই লিখেছেন।
তিনি বেশ কয়েকটি টিভি নাটক রচনা, নির্দেশনা ও পরিচালনা করেছেন। এরমধ্যে তাঁর লেখা দু’টি মঞ্চ নাটক প্রদর্শিত হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরে। ছবির কবি এ মানুষটি তৃতীয় চোখে পৃথিবীকে দেখেছেন তার মতো করে। ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে রেখেছেন অসংখ্য দূর্লভ ছবি। অনবদ্য সৃষ্টিরদ্রষ্টা স্বপ্নবাজ শাকুর মজিদ পঞ্চখন্ড তথা পূর্ব সিলেটকে আপন আলোয় আলোকিত করবেন বলে মনে করেন বোদ্ধামহল।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

ঐতিহাসিক নানকার সৃতিসৌধে তিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পুষ্পশ্রদ্ধা নিবেদন

বিয়ানীবাজারে ঐতিহাসিক নানকার দিবস পালিত

সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে অভিনব কায়দায় ছিনতাই

বিয়ানীবাজার থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র সৃজন তালুকদার ফিরে এসেছে

জকিগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গোলাপগঞ্জ ঢাকাদক্ষিন বাজারে দুটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি

ঘোষণাঃ