২৬শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শেওলা সেতু ও বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী ঘাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অতিথি ও দেশীয় পাখি

https://i1.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/01/bird.png?resize=720%2C400

বিয়ানীবাজারে শেওলা সেতুর টোল এলাকা ও গোলাপগঞ্জের শিকপুর-বহরগ্রাম ফেরী ঘাট এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে অতিথি ও দেশীয় পাখি। এছাড়া এ দুই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পাখি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুড়িয়া হাওরসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও জলাশয় থেকে অসাধু শিকারিরা অতিথি পাখিসহ দেশীয় পাখি জাল, বর্শি ও বিষ টোপ দিয়ে শিকার করছে। এসব পাখি বিক্রির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশ কয়েক জন অসাধু ব্যক্তি।

সবধরনের পাখি শিকার ও বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অসাধু ব্যাক্তিরা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে দেশীয় ও অতিথি পাখি। সিলেট-বিয়ানীবাজার মহাসড়কের শেওলা সেতুর টোল এলাকায় গাড়ি থামার সাথে সাথে পাখি বিক্রেতা গাড়িগুলো ঘিরে ধরে। অন্যান্য ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে জুয়েল, জুবেল ও হাবিবসহ আরও ২ যুবক দীর্ঘ দিন থেকে এখানে পাখি বিক্রি করছে বলে জানান স্থানীয়রা। একই দৃশ্য দেখা যায় বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরি ঘাট এলাকায়। সেখানেও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রয়ের সাথে রয়েছে দুই অসাধু ব্যাক্তি। তাদের একজন আজমল হোসেন। তার বাড়ি গোলাপগঞ্জের আমনিয়া এলাকায়।

গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে শেওলা সেতুর টোল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় তিন যুবক পাখি বিক্রি করছে। এ তিন যুবকরে মধ্যে জুবেল, জুয়েল সহোদর এবং হাবিব প্রতিবেশী। তাদের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ দুবাগ গ্রামে। দীর্ঘদিন থেকে সেতু এলাকায় তারা ফেরী করে পাখি বিক্রি করলেও প্রশাসন থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সেতুর টোল এলাকায় সাদা রঙের একটি কার থামতেই তিনজন ঘিরে ধরে। আলাপে বুঝা গেলো গাড়ির আরোহী তাদের পুরাতন খদ্দর। যদিও বেশি দাম হাকায় কারের আরোহী অতিথি পাখি ক্রয় করেননি।

জুয়েল এক হালি হাঁসের (অতিথি পাখি) দাম চাইলো ২ হাজার ৫ শত টাকা। একই ক্রেতার কাছে জুবেল ও হাবিব দেশীয় পাখি ওটা ও ওখা (স্থানীয় নাম) পৃথক দুই হালি দেখায়। ক্রেতার পছন্দ হলে তারা দাম চায় ১ হাজার ৫শ’ ও ১ হাজার ৮ শত টাকা। এক পর্যায়ে এ দুই হালি ২হাজার টাকায় এবং এক হালি অতিথি পাখি ১ হাজার ৯শত টাকায় ওই ক্রেতা কিনে নেন। অতিথি পাখি অপছন্দ হলে জুয়েল টোল এলাকার মোদিও দোকানে পেছন থেকে আরেক হালি অতিথি পাখি এনে দেয়।
জুয়েলের সাথে আলাপ করতে চাইলে প্রথমে রাজি হয়নি। কিছু সময় আলাপের জুয়েল জানায়, তারা নিজেরা পাখি শিকার করে এবং শিকারিদের কাছ থেকে পাখি কিনে নেয়। মুড়িয়া হাওর এলাকা থেকে দেশীয় প্রজাতির পাখি, শালিক, সাদা বক, কানা বক (লাল বক), ওটা, ওখা, ডুপি (ঘুঘু) এবং মুড়িয়া ও হাকালুকি হাওর থেকে অতিথি পাখি ফাঁদ পেতে ধরা হয়। সে শিকারিদের নাম বলতে রাজি হয়নি।

বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী ঘাট এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় গিয়ে বক-শাকিল নামের কালো রঙের তিন হালি দেশীয় পাখি বিক্রি করছে আজমল হোসেন নামের এ মধ্য বয়সী ব্যক্তি। নিজের বাড়ি আমনিয়া এলাকায় জানিয়ে বলেন, চন্দরপুরের কাছের একটি হাওর থেকে এ পাখিগুলো তিনি নিজে শিকার করেছেন। মোটর সাইকেল আরোহী তিন যুবক অনেক দরকষাকষি করে শেষ পর্যন্ত ৯ টাকায় এ পাখিগুলো ক্রয় করেন।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আসাদুজ্জামান বলেন, এদের ধরার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযানে আগেই টের পেয়ে যায়। দু’একদিনের ভিতরে ভিন্ন কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ সম্মেলনে বসতবাড়ি জবর দখলের অপচেষ্টা ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ স্বর্ণব্যবসায়ী সুভাষ দাসের

বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের কমিটির দাবিতে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল-পথসভা

বিয়ানীবাজারের চৌধুরী মুরাদ লন্ডনের নিউহ্যামে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী

কোন ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাঁধা হতে পারবে না- গোলাপগঞ্জে শিক্ষামন্ত্রী

সুস্থ হয়ে উঠছে সাকের ।। দোয়া কামনা

বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি ইউকে’র উদ্যোগে এড.নাসির উদ্দিন খানের সাথে মতবিনিময়

ঘোষণাঃ