১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অসহায়-দুঃস্থদের পাকা ঘর বানিয়ে দিচ্ছে বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/01/wel-fiar.png?resize=720%2C400

‘কুশিয়ারা গাঙে মোর (আমার) ঘর ভাংগিয়া নিছে-গি, হুরুতাইনতরে (সন্তানদের) নিয়া ভাঙ্গা ঘরে খুউব খষ্টে (কষ্টে) আছি। অখন (এখন) লন্ডনি ভাই হখলে (সকলে) মোর ঘর বানাইয়া দিতরা (তৈরী করে দিচ্ছেন)। খয়দিন ফরে-উ (পরে) পাকা ঘরের ভিতরে হুরুতাইনতরে নিয়া থাকমো (থাকবো)- কুশিয়ারা নদীর গ্রাসের ঘর হারিয়ে অসহায়ভাবে বসবাসকারি বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের কোনা শালেশ^র এলাকার মাওলানা ফুজায়েল আহমদ এভাবে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। তিন কন্যা, ১ পুত্র ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। গত ৩১ ডিসেম্বর তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তাকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে। নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ট্রাস্টের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।

ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক বাসন, পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল হাসনাত, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছালেহ আহমদ বাবুল, শেওলা ইউপি চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, সাংষ্কৃতিক কর্মী সরওয়ার হোসেন প্রমুখ।

বিয়ানীবাজার উপজেলার যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন ‘বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়-দুঃস্থদের পাকা ঘর বানিয়ে দেয়ার প্রকল্প শুরু ২০১২ সালে। ওই বছর জানুয়ারি মাসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৯টি পরিবারকে ঘর বানিয়ে দেয়া হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রবাসীদের এ সংগঠনের মাধ্যমে উপজেলার ২৫ পরিবারকে পাকা ঘর বানিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানের নতুন করে আরও তিন পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজ ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে।

উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের চরিয়া গ্রামের দিনমজুর রফিক উদ্দিন বলেন, কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনী আমার পাকা ঘর হবে। ঘরে ভেতর বাথরুম থাকবে। এখন হয়েছে। লন্ডনি ভাইরা আমাকে ঘর বানিয়ে দিয়েছে। চার সন্তানদের নিয়ে এখন খুব সুখে আছি।

বর্তমানে বিয়ানীবাজার সফর করছেন বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজারের অসহায় মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা করে আসছি। একই সাথে অসহায় পরিবারের দুই যুবককে আমাদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। উপজেলার শারপারের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত সিলেট এমসি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রোকুনুজ্জামানকে ভারতের টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে সে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। আমাদের মাধ্যমে তার চিকিৎসা সমস্ত ব্যয় বহন করছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতের বিয়ানীবাজার প্রবাসীরা। তিনি বলেন, কিডনি রোগে আক্রান্ত জিবানের চিকিৎসায় আমরা সাড়ে ১২ লাখ টাকা প্রদদান করি। যদিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

বিয়ানীবাজার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০১০ সালে অসহায় ১০০ পরিবারের মধ্যে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে রিক্সা বিতরণ করি। প্রতিবার বন্যায় আক্রান্ত অসহায় পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ, শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্নভাবে দুঃস্থ মানুষের পাশে আমরা দাঁড়ানো ব্রত নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে অসহায় পরিবারকে পাকা ঘর বানিয়ে দেয়ার প্রকল্প হাতে নেই। প্রতিটি ঘর তৈরী করতে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা। এখানকার প্রবাসীরা আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় আমরা এ প্রকল্প চলমান রেখেছি।

 

 

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন বদরুজ্জামান সেলিম

জাতীয় পার্টি বিরোধীদল থেকে সরকার পরিচালনায় প্রস্তুত: সেলিম উদ্দিন এমপি

এইচএসসিতে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে সিলেটের মেয়েরা

হাজী তাহির আলী ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাজী শামসুল ইসলাম সংক্ষিপ্ত সফরে এখন বাংলাদেশে

বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও এ্যাওয়ার্ড প্রদান সম্পন্ন

বিয়ানীবাজারে সূচনা প্রকল্পের ‘‘কিশোরী সমাবেশ” অনুষ্ঠিত

ঘোষণাঃ