২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে প্রতিপক্ষের আক্রোসে কাটা পড়লো প্রতিবন্ধি শিশুর বাম হাত

https://i0.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/tttttttttttttttttttttttttt.png?resize=720%2C400

পরিবারের বড়দের উপর আক্রোশ মেটাতে গিয়ে ১৫ বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিশু ফাহিমের হাত মাড়াই মেশিনে ঢুকিয়ে দেয় পাষণ্ডরা। এতে তেঁথলে যায় শিশু ফাহিমের বাম হাত। আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে তার বাম হাত কেটে ফেলা হয়। এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা গ্রামে।

প্রতিবন্ধি শিশু ফাহিম আহমদ গজুকাটা গ্রামের ফয়জুল হকের পুত্র। গত ১৮ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে ফাহিমের উপর নির্যাতন চালানো জয়। গত ২৩ নভেম্বর সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫ম এর আদালতে ফাহিম আহমদের দাদা তেরাব আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতে দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, একই মৃত আসরব আলীর পুত্র ফারুক আহমদ গংদের সাথে শিশু ফাহিমের পরিবারের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ রয়েছে। বাড়ির যাতায়াত রাস্তা নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের শিকার হলো শিশু ফাহিম । গত ১৬ নভেম্বর বিরোধপূর্ণ রাস্তা নিয়ে তেরাব আলীর সাথে ফারুক আহমদের পক্ষে লোক মুহিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম বাকবিতন্ডা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশিদের হস্তক্ষেপে বিরোধ পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার দুইদিন পর শিশু ফাহিমের উপর নির্যাতন চালানো হয়।

ফারুক আহমদের বাড়ির আঙ্গিনায় ধান মাড়াইয়ের শব্দ শুনে ছুটে যায় ফাহিম। এ সময় শিশু ফাহিমকে নিজেদের আঙ্গিনায় দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ফারুক। তার নির্দেশে মুহিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম (বংগাই)সহ কয়েকজন ফাহিমকে ধরে ধান মাড়াই মেশিনের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দেয়। এতে তার হাত ভেঙ্গে তেথলে যায়।

আহত ফাহিমের চিৎকারে তার দাদা তেরাব আলীসহ আশপাশ লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাহিমের জীবন রক্ষার্থে ডাক্তাররা কনুইয়ের উপরে তার আঘাতপ্রাপ্ত বাম হাত কেটে ফেলে। বর্তমানে শিশু ফাহিম সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় মামলা না করে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ফাহিমের দাদা তেরাব আলী। মামলার আসামীরা হলেন- গজুকাটা গ্রামের হাজী মুছব্বির আলীর পুত্র মুহিবুর রহমান (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম বংগাই (৪২), মাহতাবুল আলম (৪০), মৃত আসরব আলীর পুত্র ফারুক আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র জাহের আহমদ (১৯)।

স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আফতাব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আমি সহ গ্রামের লোকজন ছুটে যাই। এ সময় মুহিবুর রহমানের উঠানে ও বারান্দায় তাজা রক্ত দেখতে পাই। আহত ফাহিমকে আমি যাওয়ার পূর্বেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের মুরব্বীরা বসে বিষয়টি আপোষ মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে সম্মত করি। কিন্তু ফারুক আহমদ গং প্রথমে সামাজিকভাবে ঘটনার নিষ্পত্তিতে সম্মত হলেও পরে অসম্মতি জানায়।

এ ঘটনার সাথে ফারুক আহমদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফারুক আহমদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সী বলেন, আদালত থেকে এ মামলা সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা না নথি বিয়ানীবাজার থানায় আসেনি। থানায় আসলে নির্দেশনা মোতাবেক তদন্তপূর্বক আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

বিয়ানীবাজারে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কোচিং শুরু করছে 'কোয়াব' ।। রেজিস্ট্রেশন আহবান

বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজ- টাইগারদের শুভ সূচনা

বড়লেখায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

ভেঙে গেছে মেসির হাত!

অবশেষে সিলেটে ১৪ শর্তে সমাবেশের অনুমতি পেলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

বিয়ানীবাজারে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার

ঘোষণাঃ