১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বহরগ্রাম-শিকপুর ঘাটে ভরসা নৌকা- কুশিয়ারায় ডুবে নষ্ট হচ্ছে ফেরী

https://i2.wp.com/beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2017/11/fery.png?resize=720%2C400

দুই বছর আগে থেকে বন্ধ রয়েছে কুশিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী চলাচল। সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন ‘বারকি’ নৌকায়। সিলেটের সাথে বিকল্প বিয়ানীবাজার-শিকপুর-গোলাপগঞ্জ সড়কের কুশিয়ারা নদীর ওই ফেরী ঘাটে থাকা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ফেরী ডুবে গেছে। প্রায় ২০ দিন পূর্বে ফেরীটি ডুবে গেলেও সড়ক ও জনপথ এটি উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ উঠেছে সুনাই নদীর কানলি ফেরী ঘাটে চলাচলকারি একটি ফেরী নিয়েও। ২০০৩ সালে কানলি সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর বিয়ানীবাজার-শাহবাজপুর সড়কের সুনাই নদীর কানলি-দৌলতপুর অংশে চলাচলকারি একটি ফেরী ডুবে যায়। সে ফেরীও উদ্ধার করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সওজ’র দায়িত্বশীলদের এ বিষয়টি জানানোর পরও তারা ফেরীটি উদ্ধারের কোন উদ্যোগ নেননি।

সরেজমিনে কুশিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর শিকপুর অংশে নোঙ্গর করা অবস্থায় ফেরীটি তলিয়ে গেছে। ফেরীর দুই-তৃতীয়াংশ অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়ে পলিতে ভরাট হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২০/২৫ দিন থেকে রয়েছে বলে নদীর পাড়ের মানুষ জানিয়েছেন। ফেরী ইঞ্জিনের পুরো অংশ রয়েছে পানির নিচে। প্রতিদিন ইঞ্জিনে পলি জমছে। একই অবস্থা নদীর বহরগ্রাম অংশে নোঙ্গর করা পল্টনেরও। পল্টনের অর্ধেকের বেশি অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়ে পলিতে আটকে আছে।

সুনাই নদীর কানলি-দৌলতপুর ফেরী ঘাট এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালে সেতু উদ্বোধনের পর এখানে ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় নদীর দৌলতপুর অংশে একটি ফেরী নোঙ্গও করা অবস্থায় নদীতে তলিয়ে যায়। সেটি এখন পুরোটাই নদীতে তলিয়ে গেছে। গত বছর ফেরী কিছু অংশ পানি উপরে থাকলেও এবার পানি কমার পর সেটি দেখা যায়নি।

বহরগ্রাম ফেরী ঘাটের ব্যবসায়ী রাজু বলেন, ফেরী নষ্ট হওয়া দেখে স্থানীয় মানুষের মনে আঘাত লাগলেও দায়িত্বশীলদের কোন ভ্রুকেপ নেই। চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হলেও সেটি উদ্ধার হচ্ছে না। তিনি শীঘ্রই বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী চলাচলের দাবি জানান।

বহরগ্রামের জামিল হোসেন বলেন, ফেরী চলাচল করার জন্য আমরা সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করলেও সওজ’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবের কারণে ফের ফেরী চালু করা হচ্ছে না। অথচ এ ফেরী চলাচল করলে বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের ভোগান্তি কমে যেত।

সুনাই নদীতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নদীতে ফেরী তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সওজকে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু ্আজ পর্যন্ত ফেরী নদী থেকে উত্তোলন করা হয়নি।

সিলেট সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, কুশিয়ারার বহরগ্রাম-শিকপুর ঘাটে ফেরী ডুবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অবহিত রয়েছি। নদীর পানি কমে যাওয়া ফেরীটির এক পাশ কাত হয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। সিলেট অফিস থেকে ফেরী উত্তোলন করার চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা) রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শীঘ্রই ঢাকা কিংবা খুলনা থেকে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের এনে ফেরী উত্তোলন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরীটি উত্তোলনের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া সুনাই নদীর কানলি-দৌলতপুর ফেরী তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে জানান।

A+ A-
Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ সংবাদ

পুজা উদযাপন পরিষদ বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভা অনুষ্ঠিত

গোলাপগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে সংঘর্ষ:আহত ৩

ঐতিহাসিক নানকার সৃতিসৌধে তিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পুষ্পশ্রদ্ধা নিবেদন

বিয়ানীবাজারে ঐতিহাসিক নানকার দিবস পালিত

সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে অভিনব কায়দায় ছিনতাই

বিয়ানীবাজার থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র সৃজন তালুকদার ফিরে এসেছে

ঘোষণাঃ